ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পাল্টা হামলা শুরু করেছে তেহরানও। এর জেরে কাতার সব বাসিন্দাকে ঘরের ভেতরে থাকার এবং সামরিক স্থাপনা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমাও বন্ধ করে দিয়েছে। কাতারের সতর্কতা আল-জাজিরা জানিয়েছে, কাতারের রাজধানী দোহায় দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সবাইকে বাসা বা নিরাপদ স্থানে অবস্থান করতে হবে। বিশেষ করে সামরিক ঘাঁটির আশপাশ এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিস্ফোরণ এদিন আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বাহরাইনের রাজধানী মানামায়ও বিস্ফোরণ ঘটে। বাহরাইন নিশ্চিত করেছে যে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম বহরের সদরদপ্তর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। কুয়েত থেকেও বিস্ফোরণের তথ্য পাওয়া গেছে। আকাশসীমা বন্ধ কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আলোচনার মাঝেই ইরানে হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালেই আবারও ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গত বছরের জুনে ইসরায়েল–ইরান সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে হামলা চালায়। হামলার পর ট্রাম্প বলেন, আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করব এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেবো। আমরা তাদের নৌবাহিনী নিশ্চিহ্ন করবো।’ তিনি বলেন, আমরা নিশ্চিত করবো, এই অঞ্চলের ‘সন্ত্রাসী’ প্রক্সিগুলো আর অঞ্চল বা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করতে না পারে। আমরা নিশ্চিত করবো, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। এটি খুবই সহজ বার্তা—তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পাবে না। এই শাসনব্যবস্থা খুব শিগগিরই শিখবে, যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি ও সামর্থ্যকে কেউ চ্যালেঞ্জ করতে পারে না। সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/