বিদায়ী বছরে দেশজুড়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের ৪০৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশনের ‘শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: ক্রমবর্ধমান সংকট’ শীর্ষক সমীক্ষায় এসব উঠে এসেছে। আঁচল ফাউন্ডেশন জানায়, দেশের শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে ১০০টি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে প্রতি বছরের মতো ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে। সংগঠনটির গবেষকেরা মনে করেন, আত্মহত্যার পেছনে সবচেয়ে বড় দুটি কারণ হতাশা এবং অভিমান। এছাড়া সামাজিক ও পারিবারিক চাপ, সম্পর্কগত টানাপোড়েন এবং আবেগীয় সংকট, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান ও আত্মপরিচয় সংকট আত্মহত্যায় প্ররোচিত করছে শিক্ষার্থীদের। আরও পড়ুন: ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার সমীক্ষায় বলা হয়েছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে আত্মহত্যার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হতাশা। হতাশার কারণে আত্মহত্যা করেছে প্রায় ৩৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ শিক্ষার্থী। প্রেমঘটিত কারণে আত্মহত্যা করেছে ২৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। মানসিক অস্থিরতার কারণে আত্মহত্যা করে ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ শিক্ষার্থী। অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশার পরিমাণ আরও বেশি। হতাশার কারণে ৪৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। এছাড়া, প্রেমঘটিত কারণে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ, অভিমানে ১৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং পারিবারিক টানাপোড়েনে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। সমীক্ষার তথ্য বলছে, আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া ৪০৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২৪৯ জন বা ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ নারী শিক্ষার্থী এবং ১৫৪ জন বা ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ শিক্ষার্থী রয়েছেন। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার হার পুরুষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। স্কুলে ১৩৯ জন নারী ও ৫১ জন পুরুষ; কলেজে ৫০ জন নারী ও ৪২ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পুরুষ শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামান্য বেশি; যেখানে ৪১ জন পুরুষের বিপরীতে ৩৬ জন নারী শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। মাদ্রাসায় ২৪ জন নারী ও ২০ জন পুরুষ আত্মহত্যা করেছে। আরও পড়ুন: ২০টি ঘুমের ট্যাবলেট খেলেন মেঘমল্লার বসু, হাসপাতালে ভর্তি সমীক্ষার বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৮ জন বা ২৯ দশমিক ২৪ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৩ জন তথা ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ, বরিশাল বিভাগে ৫৭ জন বা ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং রাজশাহী বিভাগে ৫০ জন তথা ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। এ পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে, এটি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের সমস্যা নয়, বরং জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত একটি সংকট। এর আগে ২০২৪ সালে মোট ৩১০ শিক্ষার্থী এবং ২০২৩ সালে দেশে মোট ৫১৩ শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।