গরমে পানি কম খাওয়া, ডায়রিয়া, বমি কিংবা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা—এসব কারণে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। আর সেই গরমে রোজা থেকে পানির দিকে একটু কম খেয়াল করলে পানিশূন্যতা খুবই স্বাভাবিক। ডায়াবেটিস থাকলে তখন অনেকেই লক্ষ্য করেন, রক্তে শর্করার মাত্রা আগের চেয়ে বেশি দেখাচ্ছে। বিষয়টি কাকতালীয় নয়; এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কারণ আছে - শরীরে পানি কমে গেলে রক্ত ঘন হয়ে যায়। রক্তের তরল অংশ (প্লাজমা) কমে গেলে গ্লুকোজের ঘনত্ব তুলনামূলকভাবে বেশি দেখায়। ফলে একই পরিমাণ শর্করা থাকলেও পরীক্ষায় মাত্রা বেশি ধরা পড়তে পারে। এ ছাড়া পানিশূন্যতার সময় শরীর স্ট্রেস রেসপন্সে যায়। তখন কর্টিসল ও গ্লুকাগনের মতো হরমোন বেড়ে যায়, যা লিভার থেকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ রক্তে ছাড়তে পারে। ফলে ব্লাড সুগার সাময়িকভাবে বাড়ে। ডায়াবেটিস থাকলে ঝুঁকি বেশি কেন? ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা আগেই কম বা অপ্রতুল থাকে। যখন পানিশূন্যতা হয়, তখন - ১. কিডনি পর্যাপ্ত পানি না পেলে অতিরিক্ত গ্লুকোজ প্রস্রাবের মাধ্যমে বের করতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করা জমে থাকে। ২. শরীর আরও বেশি পানি হারালে ডিহাইড্রেশন ও হাইপারগ্লাইসেমিয়ার একটি চক্র তৈরি হয় - যাকে ‘ডিহাইড্রেশন-হাই সুগার সাইকেল’ বলা হয়। ৩. গুরুতর ক্ষেত্রে ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস বা হাইপারসমোলার হাইপারগ্লাইসেমিক স্টেটের ঝুঁকি বাড়তে পারে। রোজায় কী হয়? রমজানে দীর্ঘ সময় না খাওয়া ও পানি পান না করার কারণে শরীরে পানি কমে যেতে পারে - বিশেষ করে গরমে। যদি ইফতার ও সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া হয়, তবে দিনের শেষে ব্লাড সুগার তুলনামূলক বেশি দেখা যেতে পারে। আবার উল্টোভাবে, কেউ যদি অতিরিক্ত মিষ্টি ও ভাজাপোড়া খান, তবুও শর্করা বেড়ে যাবে - এ ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে। কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন? পানিশূন্যতার সঙ্গে যদি অতিরিক্ত পিপাসা, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাব কম হওয়া, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা ও হঠাৎ ব্লাড সুগার ১৩.৯ মিলিমোল/লিটার বা তার বেশি দেখা দেয় - তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কী করবেন? ১. ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ধীরে ধীরে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।২. চিনি ও কৃত্রিম মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে চলুন।৩. অসুস্থ থাকলে (ডায়রিয়া, জ্বর) নিয়মিত ব্লাড সুগার মাপুন।৪. বারবার উচ্চ রিডিং এলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। চিনি সরাসরি পানিশূন্যতা তৈরি করে না, কিন্তু রক্ত ঘন করা, স্ট্রেস হরমোন বাড়ানো ও কিডনির কার্যকারিতা কমিয়ে ব্লাড সুগার বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান শুধু তৃষ্ণা মেটানোর বিষয় নয় - এটি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সূত্র: আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস এএমপি/এমএস