মাঠের পারফরম্যান্সে খুব একটা স্বস্তিতে নেই চেলসি। এবার মাঠের বাইরের পরিসংখ্যানেও বড় ধাক্কা খেল ব্লুজরা। ২০২৪-২৫ মৌসুমে রেকর্ড ৩৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড লোকসান করেছে ক্লাবটি। যা ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ বার্ষিক ঘাটতি। উয়েফার প্রকাশিত সবশেষ তথ্যে উঠে এসেছে স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ক্লাবটির আকাশচুম্বী খরচ আর আয়ের বিশাল ব্যবধানের এই চিত্র।ফুটবল বিশ্বে খরুচে ক্লাব হিসেবে চেলসির পরিচিতি নতুন নয়। কিন্তু উয়েফার সাম্প্রতিক ডাটাবেজ বলছে, খরচের সেই লাগামহীন ঘোড়া এখন ক্লাবটিকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে চেলসির মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩৫৫ মিলিয়ন পাউন্ডে। যা কেবল ইংল্যান্ডেই নয়, ইউরোপের ইতিহাসেও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এর আগে কেবল ২০২১ সালে বার্সেলোনা এর চেয়ে বেশি লোকসান গুনেছিল। আরও পড়ুন: অবনমন লড়াই এখন ‘জীবন-মৃত্যুর’ মতো: ইগর টুডর এক বছরের ব্যবধানে চেলসির লোকসান বেড়েছে প্রায় ২৬০ মিলিয়ন পাউন্ড। অথচ এই সময়ে ম্যানচেস্টার সিটি বা লিভারপুলের মতো ক্লাবগুলো যখন সাড়ে সাতশ মিলিয়ন পাউন্ডের কাছাকাছি আয় করছে, চেলসির রাজস্ব সেখানে মাত্র ৫১১ মিলিয়ন। মূলত আয়ের তুলনায় আকাশচুম্বী ব্যয়ই এই সংকটের মূল কারণ। ৩৯০ মিলিয়ন পাউন্ডের বিশাল বেতন কাঠামো এবং ২৪১ মিলিয়নের পরিচালনা ব্যয় চেলসিকে ইউরোপের শীর্ষ ব্যয়বহুল ক্লাবগুলোর কাতারে ঠেলে দিয়েছে। উয়েফার অভ্যন্তরীণ অডিটের প্রকাশিত চিত্র থেকে দেখা যায়, চেলসির বর্তমান স্কোয়াডটি ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল, যার পেছনে খরচ হয়েছে ১.৫ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। অথচ মাঠের সুবিধায় তারা পিছিয়ে। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজের ধারণক্ষমতা কম হওয়ায় লিভারপুলের তুলনায় প্রতি ম্যাচে ১.২ মিলিয়ন পাউন্ড কম আয় করে তারা। এমনকি নেই নিয়মিত কোনো ফ্রন্ট-অফ-শার্ট স্পন্সরও। মুদ্রার উল্টো পিঠে, মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ব্লুকো-র আরেক ক্লাব স্ত্রাসবুর্গও আছে ইউরোপের শীর্ষ লোকসানিদের তালিকায়। আরও পড়ুন: বর্ণবাদী মন্তব্য করার কথা স্বীকার করেছেন প্রেস্তিয়ান্নি— এমন খবর উড়িয়ে দিলো বেনফিকা নিয়ম রক্ষার জন্য ক্লাবের নিজস্ব হোটেল বিক্রি কিংবা খেলোয়াড়দের সাথে অস্বাভাবিক দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মতো কৌশল নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। বিশেষ করে ডোপিংয়ের দায়ে সাময়িক নিষিদ্ধ হওয়া মুদ্রিকের মতো খেলোয়াড়দের পেছনে বিশাল বিনিয়োগ এখন ক্লাবটির জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উয়েফার এই আর্থিক প্রতিবেদন কেবল চেলসি নয়, ইউরোপীয় ফুটবলের টেকসই মডেল নিয়েই নতুন করে ভাবনার সুযোগ করে দিচ্ছে।