অমর একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে ইভা আরমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘চিঠি’। বইমেলায় অন্যপ্রকাশের স্টলে পাওয়া যাচ্ছে বইটি। মোট ৪৮টি কবিতা নিয়ে সাজানো বইতে উঠে এসেছে মানুষের ভেতরের অপ্রকাশিত অনুভূতি। প্রতিটি কবিতা যেন একেকটি চিঠি; কখনো প্রিয়জনের উদ্দেশে, কখনো নিজের কাছে, কখনো বা সময়ের কাছে। ভালোবাসা, অভিমান, স্মৃতি, অপেক্ষা ও জীবনের সূক্ষ্ম টানাপোড়েন সহজ অথচ হৃদয়গ্রাহী ভাষায় ফুটে উঠেছে বইটির পাতায়। কবিতাগুলো পাঠককে নিজের ভেতরের কথাগুলোর মুখোমুখি দাঁড় করায়, পুরোনো অনুভূতিগুলোকে নতুন করে স্পর্শ করতে আহ্বান জানায়। ইভা আরমান বলেন, ‘চিঠি এমন কিছু কথা, যা আমরা বলতে পারি না, কিন্তু মনে জমে থাকে। সেই জমে থাকা কথাগুলোরই সাহিত্যিক রূপ এই বই।’ আরও পড়ুনপ্রকাশিত হলো ‘আমাদের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী’ পাওয়া যাচ্ছে মোমিন মেহেদীর ‘সাংবাদিকতা’ ইভা আরমানের সাহিত্যচর্চার শেকড় পারিবারিক ঐতিহ্যে প্রোথিত। তার দাদা মো. ইব্রাহিম ছিলেন কলকাতার একজন সুপরিচিত লেখক। শিশু-কিশোরদের জন্য রচিত তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ ‘ছড়াইতি’ (১৯৬৩) ও ‘জলসা’ (১৯৬৮)। ছোটবেলা থেকেই দাদার লেখা পড়তে পড়তে কবিতা, ছড়া ও গল্প লেখার প্রতি আগ্রহ জন্ম নেয়। দীর্ঘদিনের অনুভব, অভিজ্ঞতা ও অন্তর্গত ভাবনারই পরিণতি এই কাব্যগ্রন্থ। সংগীত জগতে তিনি ‘ইভা রহমান’ নামে সুপরিচিত। ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম একক অ্যালবাম। এরপর ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে মোট ২৪টি একক অ্যালবাম। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে দেশ-বিদেশে অর্জন করেছেন বহু সম্মাননা, যার মধ্যে কলকাতার ‘কলাকার’ অ্যাওয়ার্ড উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের আর্থ-সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। লেখালেখির মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলতে চান ইভা আরমান। সংগীত থেকে সাহিত্যে, নিজেকে নতুনভাবে প্রকাশের এই প্রয়াস পাঠকমহলে কেমন সাড়া ফেলে, তা সময়ই বলবে। তবে বইমেলায় ঘুরতে আসা পাঠকদের জন্য ‘চিঠি’ হতে পারে অনুভূতির এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা। এলআইএ/এসইউ