ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ পাল্টা আক্রমণ।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে ইরানে হামলার পর তেহরান এবার মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়তে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আবুধাবিতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।আবুধাবির ‘ক্যাপিটাল মল’-এর একটি দোকানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি আব্দুর রহিম সময় সংবাদকে জানান, দুপুরের দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। বজ্রপাতের মতো সেই প্রচণ্ড শব্দ শোনার কিছুক্ষণ পরই সবার মোবাইলে সতর্কবার্তা আসে এবং সম্ভাব্য মিসাইল হামলার আশঙ্কায় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। আরও পড়ুন: ইরানে ইসরাইলের হামলা, যা বলছে পাকিস্তানরহিম বলেন, ‘হঠাৎ বিকট শব্দ কানে আসে। মুহূর্তের মধ্যে মলের ক্রেতারা আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে বেরিয়ে যেতে থাকেন। স্থানীয়রা নিরাপদ আশ্রয় পেলেও আমরা কর্মস্থল ছেড়ে কোথাও যেতে পারছিলাম না।’ তিনি আরও জানান, মলের বাইরে উঁকি দিয়ে তিনি নিজের চোখে ৩-৪টি মিসাইল আকাশ চিরে উড়ে যেতে দেখেছেন এবং একটির ছবিও মোবাইলে ধারণ করেছেন।প্রবাসী আব্দুর রহিমের দেয়া তথ্যমতে, তাদের অবস্থান থেকে আক্রান্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিটির দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার, যা গাড়িযোগে যেতে ২৫-৩০ মিনিটের পথ। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও তা অনুভূত হয়েছে। হামলার পরপরই ওই এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলের যৌথ কমান্ডে ইরানে হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে পুরো অঞ্চল এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। একদিকে তেহরানে খামেনি ও প্রেসিডেন্টের দফতরের সামনে বিস্ফোরণ, অন্যদিকে দক্ষিণ ইরানে বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরাইলি হামলায় ৩৬ ছাত্রীর মৃত্যু–সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।রাশিয়া এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আসল রূপ’ এবং ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এদিকে ইরানের পাল্টা হামলার মুখে সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে অবস্থানরত লাখো প্রবাসী বাংলাদেশি এখন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।