ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসনের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দেশগুলো।বাহরাইন বলেছে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো হয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’। দেশটির কর্তৃপক্ষ এসব হামলাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতাপূর্ণ আক্রমণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এগুলো বাহরাইনের নিরাপত্তা ও নাগরিক-বাসিন্দাদের সুরক্ষার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের দেশ ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আবুধাবির একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কিছু বস্তুগত ক্ষতি হয়েছে এবং এ ঘটনায় একজন বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আমিরাত এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, বেসামরিক স্থাপনা, অবকাঠামো ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করা সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। তাদের মতে, এটি বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং কাপুরুষোচিত পদক্ষেপ, যা বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে। আরও পড়ুন: ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ইসরাইলের একাধিক স্থানে বিস্ফোরণ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই হামলা জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার এবং নিজেদের ভূখণ্ড রক্ষায় পূর্ণ অধিকার সংরক্ষণ করে। পাশাপাশি যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় তারা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। সৌদি আরব বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে দেশটি বলেছে, তারা এসব হামলাকে ‘সবচেয়ে কঠোর ভাষায়’ নিন্দা জানাচ্ছে। রিয়াদ সতর্ক করে বলেছে, রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালা লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে এর ‘পরিণতি গুরুতর’ হতে পারে। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যে আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে শুরু করেছে ইসরাইল। মার্কিন ও ইসরাইলি যৌথ হামলায় তেহরানে ইরানি প্রেসিডেন্টের বাসভবনসহ ৩০টিরও বেশি স্থান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। হামলা এখনও অব্যাহত রয়েছে। আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে যেসব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালালো ইরান জবাবে কয়েক ঘণ্টা পরই ইসরাইলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিগুলো টার্গেট করা হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুগুলো হলো- কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি, কুয়েতের আল সালেম বিমান ঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল দাফরা বিমান ঘাঁটি ও বাহরাইনের পঞ্চম মার্কিন ঘাঁটি।