জনগণের রক্ত চুষে খাওয়ার দিন এখন শেষ: শেখ ফরিদুল ইসলাম

জনগণের রক্ত চুষে খাওয়ার দিন এখন শেষ। মোংলা-রামপালের প্রতিটি সরকারি খাল এখন থেকে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাটের মোংলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ মাদুরপাল্টা, ভোলা নদী, পালেরখণ্ড এবং বেনীরখণ্ড খালের মোট সাড়ে ৮ কিলোমিটার অংশ পুনঃখননের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, ‘যারা খাল দখল করে মাছ চাষ বা ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, স্বেচ্ছায় ছেড়ে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আমরা কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় বদ্ধপরিকর জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘এখন থেকে মোংলা ও রামপালের কোনো সরকারি খাল ইজারা বা দখলে থাকবে না, সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য সব খাল উন্মুক্ত করা হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ চার দশক পর এই খালগুলো খননের ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং স্থানীয় কৃষকরা তাদের কৃষিকাজের সুবিধা পাবেন।’আরও পড়ুন: সুন্দরবনে খুব শিগগিরই শুরু হচ্ছে জলদস্যু দমন অভিযান: প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল ইসলামপ্রতিমন্ত্রী জানান, ‘পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই খনন কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শহীদ জিয়ার খাল খনন বিপ্লবের চেতনা ধারণ করেই কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘মোংলা-রামপালের কোনো সরকারি খাল আর কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি থাকবে না, সব হবে জনগণের।’প্রতিমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শহীদ জিয়ার স্বপ্নের সেই খাল খনন বিপ্লব আজ থেকে এই জনপদে পুনরায় শুরু হলো। কোনো ইজারা নয়, কোনো দখল নয়, প্রতিটি সরকারি খাল হবে উন্মুক্ত। যারা এতদিন সাধারণ মানুষের পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে পকেট ভরেছে, তারা স্বেচ্ছায় ছেড়ে না দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমীন আক্তার সুমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এই খনন প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।আরও পড়ুন: সুন্দরবনে দস্যু দমনে কঠোর অবস্থান, বিশেষ অভিযানের ঘোষণাঅনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম,  উপজেলা বিএনপির সভাপতি আ. মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, শেখ রুস্তম আলী, থানা যুবদলের সদস্য সচিব সফরুল হায়দার সুজনসহ সিএনআরএস এর প্রতিনিধিসহ বিএনপি নেতাকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এ সময় উপস্থিতি ছিলেন।জানা যায়, মাদুরপাল্টা, ভোলা নদী, পালেরখণ্ড ও বেনীরখণ্ড খালের সাড়ে ৮ কিলোমিটারজুড়ে চলবে এই খনন কাজ। চারটি খাল থেকে প্রায় ২৬ লাখ ১৪ হাজার ৬৫৭ ঘনফুট মাটি সরানো হবে। খালগুলোর ওপরের প্রস্থ হবে ২৫ ফিট, নিচের প্রস্থ হবে ৫ ফিট এবং গভীরতা ৮ ফিট নিশ্চিত করা হবে, যাতে অনায়াসে জোয়ার-ভাটার পানি চলাচল করতে পারে।আর এ প্রকল্পের ৪৯ লাখ ৬৭ হাজার ৮৪৭ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই কাজ আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে।