যে কারণে ইলমে ওয়াহি অপরিহার্য

এই পৃথিবীতে দুই ধরনের মানুষ বাস করে। এর.নিরেট বস্তুবাদী। দুই. ঈমানদার বা মুসলিম। দ্বিতীয় দলের কাছে জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম দুইটি, এক. পঞ্চইন্দ্রিয় অর্থাৎ চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা ও ত্বক। দুই, আকল বা সাধারণ বিবেক বুদ্ধি। উপরোক্ত মাধ্যম দুটির নির্দিষ্ট সীমা ও পরিধি রয়েছে। পঞ্চইন্দ্র্রীয় দ্বারা যে জ্ঞান অর্জন করা যায়, আকল দ্বারা তা অর্জিত হয় না।যেমন, আমার সামনে একজন মানুষ উপবিষ্ট, উপবিষ্ট ব্যক্তিটি যে মানুষ আমি তা বুঝতে পারলাম দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে। চক্ষু দ্বারা আমি আরও দেখতে পেলাম যে, তার রং কালো, তার ললাট চওড়া, ঠোঁট হালকা, চেহারা সাধারণ। আমি আমার কান দ্বারা তার কথা শুনলাম।  যদি এই বিষয় গুলোর জ্ঞান আকল দ্বারা অর্জন করার চেষ্টা করা হয়, যেমন, চোখ বন্ধ করে আকল দ্বারা তার রং, শারীরিক গঠন বা তার স্বর ইত্যাদি বিষয়ে কল্পনা করা হয় তাহলে কখনও  ঐসব বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব হবেনা।  ঠিক তদ্রুপ, যে সব বিষয়ের জ্ঞান আকলের মাধ্যমে অর্জিত হয় তা পঞ্চইন্দ্রীয়ের মাধ্যমে অর্জন করা অসম্ভব। যেমন, প্রত্যেক ব্যক্তির একজন মা বা জননী থাকা আবশ্যক।  যদিও আমার চোখের সামনে সেই জন্মদাত্রী নেই, তারপরও আমার আকল বা স্বাভাবিক বিবেক বুদ্ধি আমাকে জানিয়ে দেয় যে, সে তো মাটি ফেটে বের হয়নি, অবশ্যই কেউ না কেউ তাকে প্রসব করেছে। এখানে যদি আকল প্রয়োগ না করে ইন্দ্রীয় শক্তির মাধ্যমে তার মাকে খুঁজে বেড়াই, তাহলে কিয়ামত পর্যন্ত খুঁজলেও তার দেখা মিলবে না।  আরও পড়ুন: সেহরি খেয়ে নিয়ত না করে ঘুমিয়ে পড়লে রোজা হবে? কেননা, বিষয়টা কেবল দেখার নয়, বরং জানার এবং বুঝার । এতক্ষণ আমরা যে বিষয়ের উদাহরণ দিলাম তা পঞ্চইন্দ্রীয় এবং সাধারণ আকল বুদ্ধি দ্বারা জানা যায়।  অবশ্য এই পঞ্চইন্দ্রীয় এবং সাধারণ আকলও মাঝে মধ্যে ভুল করে। সেই সাথে এটাও ধ্রুব সত্য যে এই দুই মাধ্যম সবকিছু বুঝতে পারে না। যেমন, আমি এখন একটি পাখার নিচে বসে আছি। আর ভাবছি যে এই পাখার তো একজন নির্মাতা আছে। সে কে ? প্রকৌশলী।  এটাকে তৈরি পেছনে তো কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে! তা কী? তাহলো মানব জাতিকে বাতাসের যোগান দিয়ে ঠান্ডা করা। এবার ভাবুন আমার আপনার একজন স্রষ্টা আছে । আমাদের সৃষ্টিতে তার বিশেষ উদ্দেশ্য আছে! এখন প্রশ্ন হলো স্রষ্টাকে চেনার উপায় কী? কী উদ্দেশ্যে তিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তা জানার উপায় কী? তিনি আমাদের মালিক, তাঁর গোলামী করার পদ্ধিতি কী? তার সন্তুষ্টি কিসে, অসন্তুষ্টি কিসে? পঞ্চইন্দ্রীয় এবং আকল এই প্রশ্নের জবাব জানে না। এর জবাব জানে একমাত্র ইলমে ওয়াহি। অর্থাৎ আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত ঐশী জ্ঞান যাতে কোনো ভুল নেই, ক্রটি নেই। যা স্বয়ং সম্পূর্র্ন। যা কল্যাণকর মানবতা শিখায়, হালাল হারাম ও ন্যায় অন্যায়ের পার্থক্য জানিয়ে দেয়। সহজেই স্রষ্টাকে চিনতে শিখায়। স্রষ্টার সন্তুষ্টির পথ দেখায়, অসন্তুষ্টির পথও বাতলে দেয়। যা পঞ্চইন্দ্রীয় ও সাধারণ বিবেক বুদ্ধি পারে না। এই হলো মুমিনের বিশ্বাস। বুঝা গেল, ঈমানদার মুসলমানের জীবন পরিচালনার জন্য ঐশী জ্ঞান একমাত্র মাধ্যম। এর কোনো বিকল্প নেই। যা জীবনের সাথে সম্পৃক্ত সকল সমস্যার সমাধান সরবরাহ করতে সক্ষম। এর মাধ্যমে সৃষ্টিজীব ও স্রষ্টার সঠিক পরিচয় জানা যায়। আদর্শ মানব হিসেবে গড়ে ওঠা যায়।  তার গোলাম হিসেবে জীবন-যাপন করে জান্নাত লাভ করার পন্থা জানা যায়। তদুপরি অন্যায় অত্যাচার , সুদ, ঘুষ পশুত্ব, অশ্লীলতা, নাস্তিকতা , খুন, রাহাজনী, চুরি, দূর্নীতি, মিথ্যাবাদীতা, ধোকা-বাজী, প্রতারণা ইত্যাদি থেকে আত্মরক্ষা করা যায় এবং জাহান্নাম থেকে বাঁচা যায়।