‘জ্বালানিতে বড় সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ’, ‘সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা’

প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় রোববার (১ মার্চ) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। বণিক বার্তা পত্রিকার খবর- জ্বালানিতে বড় সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ।খবরে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি চাহিদার ৬৫-৭০ শতাংশ আমদানিনির্ভর। এর বেশির ভাগ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)।এসব পণ্যের বড় অংশ আমদানি হয় মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় দেশ কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান থেকে। বিশেষ করে দেশে এলএনজি ও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের একক সরবরাহ উৎস কাতার, সৌদি আরব ও আরব আমিরাত।মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতের তীব্রতা বাড়লে এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে তা বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনাসহ আর্থিক খাতে বড় সংকট তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।গত রাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ মিশন অ্যাসপিডসের একজন কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডদের কাছ থেকে জাহাজগুলো ভিএইচএফ ট্রান্সমিশন (রেডিও বার্তা) পাচ্ছে যে কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে দেয়া হবে না।তবে এ কর্মকর্তা রয়টার্সকে এটাও বলেছেন যে ইরান সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো এমন কোনো নির্দেশ জারি করা হয়নি।উল্লেখ্য, এ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি পথ, যা উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করে।দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার খবর- Chaos at Dhaka airport as flights to ME halted অর্থাৎ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ গতকাল বিকেল থেকে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে।গতকাল থেকে বাংলাদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়।এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে।এই পরিস্থিতিতে বাহরাইন, কুয়েত, দুবাই ও কাতার সাময়িকভাবে আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করে। ফলে এসব রুটের অনেক ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত বা পুনঃতফসিল করা হয়।খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রবাসী কর্মী, ব্যবসায়ী, ওমরাহ যাত্রী ও ট্রানজিট যাত্রীদের ভিড়ে বিমানবন্দরে জটলা সৃষ্টি হয়। এতে শত শত যাত্রী আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন। মানবজমিন পত্রিকার খবর- সব ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা।খবরে বলা হয়েছে, ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য ও এর আশপাশে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিভিন্ন দেশ ইরান থেকে তাদের নাগরিকদের সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন ও দেশ ফ্লাইট স্থগিত এবং আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে।উইজ এয়ার অবিলম্বে ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবি এবং জর্ডানের আম্মানগামী ও সেখান থেকে আসা সব ফ্লাইট ৭ই মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছে।লুফথানসা শনিবার ও রোববার দুবাই, তেল আবিব, লেবাননের বৈরুত এবং ওমানের মাস্কাটে যাওয়া-আসার সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।কেএলএম আমস্টারডাম থেকে তেল আবিবগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে। ওমান এয়ার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। রাশিয়া ইরান ও ইসরাইলগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।কুয়েত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ইরানগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।ইরাক সব আগমন ও প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল করে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে। ইসরাইল সব বেসামরিক ফ্লাইট বাতিল করে তাদের আকাশসীমা বন্ধ করেছে।অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে এয়ার ইন্ডিয়া। আগামী ৩রা মার্চ পর্যন্ত তেল আবিব ও বাহরাইনগামী সব ফ্লাইট বাতিল করেছে বৃটিশ এয়ারওয়েজ।কালের কণ্ঠ পত্রিকার খবর- মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ। ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি এবং উদ্ভূত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জরুরি এক বৈঠক শেষে রাতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও পররাষ্ট্রসচিব মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে জরুরি বৈঠক করেন।বৈঠককালে তাঁরা তেহরানে বাংলাদেশ মিশনের প্রধানের সঙ্গেও টেলিফোনে আলোচনা করেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আকাশপথ ও আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গমনরত বাংলাদেশি কর্মীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছু এবং বর্তমানে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।এ বিষয়ে কয়েকটি দেশ ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করেছে। যুগান্তর পত্রিকার খবর- মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করতে হবে।দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে- রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।শনিবার বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর আমন্ত্রণে ইফতার মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।সেখানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই টেবিলে বসে ইফতার করেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা।ইফতারে দাওয়াত দেওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ইফতার মাহফিলে আসুন আমরা আল্লাহর নামে শপথ গ্রহণ করি যে, আমাদের আগামী দিনের কাজগুলো হবে এই দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য।তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজকে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে, অনেক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে, অনেক আশা নিয়ে আমাদের সবার দিকে তাকিয়ে আছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে।প্রথম আলো পত্রিকার খবর- চট্টগ্রামে 'চাঁদা না পেয়ে' পুলিশের পাহারায় থাকা ব্যবসায়ীর বাসায় গুলি। এর আগে গত ২ জানুয়ারি ওই বাসায় গুলি করেছিলেন সন্ত্রাসীরা। গুলিতে বাসার জানালার কাচ ভেঙে গিয়েছিল। বাসার দরজায়ও গুলি লাগে।এর পর থেকে বাসাটি পুলিশের পাহারায় ছিল। পুলিশের পাহারার মধ্যেই বাসাটিতে আবারও গুলির ঘটনায় আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছেন।প্রথমে ১০ কোটি টাকা, পরে ৫ কোটি টাকা দাবি করেন সাজ্জাদ। দেশ রূপান্তর পত্রিকার খবর- ৩৩১ তালেবান যোদ্ধা নিহতের দাবি পাকিস্তানের। খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের তালেবান সামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান লড়াই অব্যাহত আছে।গতকাল শনিবার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতের তৃতীয় দিনেও দুই দেশ সীমান্তে একে অপরের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জরুরি আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।গত শুক্রবার পাকিস্তানের বিমান কাবুল ও কান্দাহারসহ আফগানিস্তানের বিভিন্ন স্থানে তালেবান সামরিক স্থাপনা ও সীমান্ত চৌকিতে আঘাত হেনেছে।পাকিস্তানের দাবি, তাদের অভিযানে আফগানিস্তানে ৩৩১ তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে।