দুই মাসেই ৩৪ বার সমন্বয়, কত বাড়ল স্বর্ণের দাম?

চলতি বছরের শুরু থেকে টালমাটাল স্বর্ণের বাজার। এতে বছরের প্রথম ২ মাসেই (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ৩৪ বার। উত্থান-পতনের এই প্রবণতায় দাম বেড়েছে ৪৪ হাজার ৪৯৮ টাকা।বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বলছে, চলতি বছরের প্রথম ২ মাসে দেশের বাজারে ২২ বার বাড়ানো হয়েছে স্বর্ণের দাম, আর কমেছে ১২ বার। আর গত বছরের একই সময়ের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মাত্র ১০ বার।চলতি বছর শুরু হয়েছিল স্বর্ণের দাম পতানের মধ্য দিয়ে। ১ জানুয়ারি ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরিতে ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২২ হাজার ৭২৪ টাকা। এরপর ৪ ও ৫ জানুয়ারি টানা ২ দফা বাড়ানো হয় স্বর্ণের দাম। এরপর ৮ জানুয়ারি দাম কমিয়ে মূল্যবান এই ধাতুর দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৬ হাজার ৮০৬ টাকা। আরও পড়ুন: সকালের পর রাতেও যে কারণে বাড়ল স্বর্ণ ও রুপার দামতবে এরপরই স্বর্ণের বাজারে দেখা দেয় টানা উত্থান।  ১০, ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ জানুয়ারি টানা ৬ দফা বাড়ানো হয় দাম। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম গিয়ে ঠেকে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৬৭ টাকা। এর মধ্যে ১২, ১৪, ১৯, ২০ ও ২১ দাম বেড়ে প্রতিবারই দেশে সর্বোচ্চে পৌঁছায়।গত ২২ জানুয়ারি ভরিতে ৩ হাজার ১৪৯ টাকা কমিয়ে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৩১৮ টাকা। তারপর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ে গত ২৩ জানুয়ারি ৬ হাজার ২৯৯ টাকা বাড়িয়ে স্বর্ণের দাম দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়।ফের ২৫, ২৬, ২৮ ও ২৯ জানুয়ারি টানা বাড়ানো হয় মূল্যবান এই ধাতুর দাম। প্রতিবারই তৈরি হয় নতুন রেকর্ড। গত ২৯ জানুয়ারি রেকর্ড ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা।এরপরই ঘটে ছন্দপতন। গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি টানা ২ দফায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাজুস। টানা দুই দিনে যথাক্রমে ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা ও ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমানো হয়। এতে দুই দিনে মোট ৩০ হাজার ৩৮৪ টাকা কমে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়ায় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকায়।তবে ৩১ জানুয়ারি সকালে দাম কমানোর ১২ ঘণ্টা পার না হতেই ফের দেশের বাজারে বাড়ানো হয় মূল্যবান এই ধাতুর দাম। ভরিতল ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা।ফেব্রুয়ারি মাসজুড়েও চলেছে স্বর্ণের উত্থান-পতন। এই মাসে মূল্যবান এই ধাতুর দাম সমন্বয় করা হয়েছে মোট ১৫ বার। যেখানে বেড়েছে ৮ বার, আর কমেছে ৭ বার।গত ১ থেকে ২ ফেব্রুয়ারি টানা ৩ দফায় মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমানো হয় ১৩ হাজার ৯৩৯ টাকা। তবে ৩ ফেব্রুয়ারি একদিনেই ২ দফা সমন্বয়ে দাম বাড়ানো হয় মোট ১৬ হাজার ৩৩০ টাকা। দাম গিয়ে ঠেকে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকায়।এরপর গত ৬ ফেব্রুয়ারি ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানোর পর দিনই ফের ভরিতে বাড়ানো হয় ৭ হাজার ৬৪০ টাকা। ৭ ফেব্রুয়ারিই আবার ভরিতে কমানো হয় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। একদিন বিরতি দিয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা।গত ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি টানা ২ দফায় কমানো হয় ৫ হাজার ৪৮২ টাকা। তবে এরপর গত ২১, ২৩ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি টানা ৪ দফায় স্বর্ণের দাম মোট বাড়ানো হয়েছে ১৩ হাজার ১২২ টাকা।সবশেষ নির্ধারিত অর্থাৎ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে সমন্বয় করা দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ৬৮০ টাকা।এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।​কেন এই অস্থিরতা?​বাজুস জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে দাম ওঠা-নামা করলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই দেশেও দাম সমন্বয়ের প্রয়োজন পড়ে। আরও পড়ুন: দেশে ঘন ঘন স্বর্ণের দাম সমন্বয় হচ্ছে কেন? সম্প্রতি বাজুস সভাপতি এনামুল হক খান বলেন, স্বর্ণের বাজারের অস্থিরতার জন্য বাজুস বা বাংলাদেশের কোনো ব্যক্তি দায়ী নয়। মূলত বিদেশে স্টক করা বা কাগজে কলমে লেনদেনের কারণে এই ওঠা-নামা ঘটছে। বাজুস শুধু দেশের বাজারে দাম সমন্বয় করে।তিনি আরও বলেন, দাম সমন্বয়ের মূল উদ্দেশ হলো পাচার রোধ করা এবং ব্যবসায়ীদের ক্ষতি না হওয়া। যদি দাম সমন্বয় না করা হয়, দেশে দাম কম থাকলে স্বর্ণ পাচার হয়ে যাবে। তাই বিশ্ববাজারে ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বাজারেরও দাম সমন্বয় করা হয়। বাজুস সভাপতি জানিয়েছেন, বর্তমানে মানুষ স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে গ্রহণ করছে। তবে পৃথিবীর বাজারে বিক্রিত স্বর্ণের অনেকাংশই কাগজে কলমের মাধ্যমে (পেপার ট্রেডিং) মজুত করা হয়। বাস্তবে কতটা ফিজিক্যাল স্বর্ণ রয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।