পশ্চিমবঙ্গে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে দেশের আরও ১১টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানান, নতুন তালিকায় রয়েছে ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জন ভোটারের নাম। পুরনো তালিকায় ছিল প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ নাম। অর্থাৎ যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রায় ৬২ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে।নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া নামগুলোর মধ্যে রয়েছে ২৪ লক্ষ ১৭ হাজার মৃত ভোটার, ২০ লক্ষ স্থানান্তরিত ভোটার, ১২ লক্ষের বেশি খুঁজে না পাওয়া ভোটার এবং ১ লক্ষ ৪০ হাজারের বেশি একাধিক জায়গায় নাম থাকা ভোটার।গত বছর ২৭ অক্টোবর বিশেষ সংশোধন কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়। ২৮ নভেম্বর থেকে প্রক্রিয়া শুরু হয়। তখন রাজ্যে মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন। ১৬ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম বাদ পড়ে। খসড়া তালিকায় ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০।খসড়া প্রকাশের পর প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটারকে শুনানির জন্য চিহ্নিত করা হয়। এর মধ্যে ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটার, যারা আগের এসআইআর-এর সঙ্গে তথ্যের মিল দেখাতে পারেননি। বাকি প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারকে তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে শুনানিতে ডাকা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি হয়েছে বলে কমিশন জানিয়েছে।শনিবার প্রকাশিত তালিকায় যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদের তিনটি বিভাগে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে লেখা হয়েছে ‘ডিলিটেড’। যাদের নথি যাচাই ও নিষ্পত্তি এখনও হয়নি, সেই ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের ক্ষেত্রে লেখা হয়েছে ‘বিচারাধীন’। যোগ্য প্রমাণিত ভোটারদের ‘অ্যাপ্রুভড’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও পড়ুন: ভারতে ৩২ বিশ্ববিদ্যালয়কে ভুয়া ঘোষণা, দিল্লিতেই ১২টিএসআইআর প্রক্রিয়ার পদ্ধতিগত ত্রুটি নিয়ে একাধিক রাজনৈতিক দল প্রশ্ন তুলেছিল। এদিন মনোজ আগরওয়াল স্বীকার করেন, “কিছু ভুলভ্রান্তি হয়েছে।” তবে তিনি বলেন, এত বড় প্রক্রিয়ায় এই ভুল খুবই সামান্য এবং যেখানে ভুল হয়েছে, সেখানে কমিশন ব্যবস্থা নিয়েছে।তিনি জানান, বিকেল ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং সাড়ে ৫টা থেকে বিধানসভা ও বুথভিত্তিক তালিকা ওয়েবসাইটে দেখা যায়। তবে যাদবপুর ও বিধাননগর— এই দুই বিধানসভায় তালিকা আপলোড করতে সফটওয়্যারে সমস্যা হয়েছিল।চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিজেপির প্রভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতি করা হয়েছিল, সেটাই সংশোধন করা হয়েছে।সংবিধান অনুযায়ী, মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। ফলে শিগগিরই বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।