নেত্রকোনার বাইপাস সড়কের কাজ শেষ হবে কবে?

কয়েক দফায় মেয়াদ বাড়ানোর পর নেত্রকোনার বহুল কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের বাইপাস সড়ক নির্মাণ দৃশ্যমান হয়েছে। তবে শেষ মেয়াদে কাজ সমাপ্ত হওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।অভিযোগ উঠেছে, কয়েক কিলোমিটারের অধিক জায়গায় এখনো ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্নই হয়নি। তবে বাস্তবায়নকারী দফতর বলছে, দ্রুতই শেষ হবে সড়কের কাজ।সূত্র জানায়, নেত্রকোনার সব উপজেলার সঙ্গে রাজধানীসহ সারা দেশের নিরাপদ যোগাযোগ এবং নেত্রকোনা শহরকে যানজট মুক্ত করতে গেল ২০১৬ সালে উদ্যোগ নেয়া হয় চল্লিশা থেকে রাজুরবাজার ১১ দশমিক দুই কিলোমিটার বাইপাস সড়ক নির্মাণের। কিন্তু ডিপিপি অনুমোদনসহ নানা জটিলতা শেষে ২০১৯-২০ অর্থবছরে কাজটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ২০২১ সালে শুরু হয় সড়কের কাজ।মোট ২২টি কালর্ভাট ও চারটি ব্রিজসহ সড়ক পরবর্তীতে দুই কিলোমিটার বেড়ে ১৩ দশমিক ২ কিলোমিটারের কাজ চলে চারটি প্যাকেজে।আরও পড়ুন: স্বপ্নের উড়াল সড়কে পা দিচ্ছে খুলনাতারমধ্যে প্রথম প্যাকেজ রানা বিল্ডার্স ব্রিজ কালভার্টের ৩৫ কোটি টাকার কাজটি পায়। দ্বিতীয় প্যাকেজ তাহের ব্রাদার্স ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কের ৬৪ কোটি টাকায় কাজটি পায়। তৃতীয় প্যাকেজ ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার ৫৪ কোটি টাকায় কাজটি পায় মেসার্স জামিল ইকবাল ইন্সট্রাকশন। পরবর্তী চতুর্থ এবং সর্বশেষ প্যাকেজে দুই কিলোমিটার ২৬ কোটি টাকায় মোস্তফা জামান ট্রেডার্স কাজটি পায়। ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতায় নেত্রকোনার বাইপাস সড়ক কাজের আবারো মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত করা হয়। ছবি: সময় সংবাদসবশেষে ২০২২ সালে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু ঢিমেতালে কাজে এবং ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতায় আবারো মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। কিন্তু রাজুরবাজার অংশের কাজে এখনো মাটিই কাটা হয়নি। ম্যাপে যাদের বাড়িঘর রয়েছে তারা মামলা করে ক্ষতিপূরণ এবং অর্থ দাবি করেছে। যে কারণে আটকে রয়েছে ওই অংশের কাজ।গাছ কাটাসহ নানা অসুবিধায় রয়েছেন জমির মালিকরা। বাড়ি ভেঙে তাদের অন্যত্র যেতে হলেও টাকার প্রয়োজন। দ্রুত সমাধান চাইছেন তারাও।আরও পড়ুন: রেলপথে নতুন উদ্যোগ: ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বাঁচবে সময়তবে স্থানীয় জমিদাতারা বলছেন, তারা টাকা না পেলে বাড়িঘর যে অন্যত্র সরাবে এই সুযোগও নেই। সবাই কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। অনেকে জমিতে ফসলও চাষ করতে পারছেন না এই সড়কের মাটি কেটে রাখায়।এ বিষয়ে সুশীল সমাজের নাগরিক প্রবীণ সাংবাদিক শ্যামলেন্দু পাল জানান, ২০১৬ সাল থেকে এই বাইপাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যেভাবে কাজ করছে আগামী আরও কয় বছর লাগে তা বলা যাচ্ছে না। ভূমি জটিলতা শেষ করতে পারছে না কেন সরকার এইটাও বুঝি না। যাদের জায়গা পড়েছে তাদের টাকা দিয়ে দিলেই হয়ে যায়। এখানেও যারা কাজ করছে তারা কোন কারণে কালক্ষেপণ করছে এটিও ক্ষতিয়ে দেখে দ্রুত সড়কটি নির্মাণ শেষ করে মানুষের ভোগান্তি কমানোর সুপারিশ করেন তিনি।আরও পড়ুন: চাঁদপুরের যে সড়কে হেলেদুলে চলে যানবাহনতবে এ নিয়ে সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম মিত্র বলেন, ‘দ্রুতগতিতেই চলছে কাজ। যেহেতু পরবর্তীতে একটি প্যাকেজে বাড়তি যুক্ত হয়েছে তাই একটু বিলম্ব হচ্ছে। এই মেয়াদে আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে শেষ করার। যদি অধিগ্রহণে সমস্যা হয় তখন সময় বাড়ানো হতে পারে।’সওজ সূত্রে জানা গেছে, নেত্রকোনা চল্লিশা-রাজুরবাজার বাইপাস ১৩ দশমিক ২ কিলোমিটার প্রস্থ ও ৯ দশমিক ৭ মিটার প্রস্থের সড়কে মোট ব্যয় ২৯৬ কোটি টাকা। তারমধ্যে ৪৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১০৪ কোটি টাকা। সড়ক নির্মাণে ১৮০ কোটি টাকা। বাকি ১২ কোটি ভিন্নখাতে দেখানো হয়েছে।