শুরু হলো অগ্নিঝরা মার্চ। ১৯৭১ সালে ঘটনাবহুল এ মাসেই আসে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের ঘোষণা। বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা চিরতরে শেষ করতে গণহত্যা শুরু করে হানাদার বাহিনী। ২৫ মার্চ কাল রাত সাক্ষী হয় নৃশংস হত্যাযজ্ঞের।১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যে দাবানলে পাকিস্তানকে পুড়িয়ে ছাই করে জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশের, তার স্ফুলিঙ্গ জ্বলে উঠেছিল মার্চ মাসেই। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য গণপরিষদ অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। এরপরই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ঢাকা। প্রতিবাদে ২ ও ৩ মার্চ পালিত হয় হরতাল। ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন শেখ মুজিবুর রহমান। যাতে আসে চূড়ান্ত লড়াইয়ের আহ্বান। আরও পড়ুন: রক্তঋণে কেনা বর্ণমালা: কৃতজ্ঞ জাতি স্মরণ করছে বীরদের তবে, বাঙালিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দমনে ২৫ মার্চ রাতে ভয়াবহ এক হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে পাকস্তানি হানাদাররা। ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে দেশজুড়ে একযোগে চালানো হয় নিরস্ত্র-নিরপরাধ বাঙালি নিধনের অভিযান। পরে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন মেজর জিয়াউর রহমান। যাতে পাক হানাদারদের রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা পায় বাঙালি। দীর্ঘ নয় মাস চলে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ লেখা হয় বিজয়গাঁথা। বিশ্বের বুকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাড়ায় বাংলাদেশ।