ইতিহাস ও ঐতিহ্যের টানে মাদারীপুরের বড় মসজিদে মুসল্লিদের ভিড়

মাদারীপুর শহরের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র পুরাণ বাজারে অবস্থিত ‘পুরাণ বাজার বড় জামে মসজিদ’। দেড়শ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদটি এখন কেবল একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নয়, বরং জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক অনন্য স্মারক। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মুসল্লী এখানে ছুটে আসেন নামাজের টানে।ধারণা করা হয়, ১৮৫৪ সালে মাদারীপুর মহকুমা প্রতিষ্ঠার পরপরই এই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। শুরুতে এটি একটি সাধারণ টিনশেড ঘর থাকলেও সময়ের বিবর্তনে এবং সরকারি-বেসরকারি অনুদানে এটি আজ একটি বিশাল দোতলা ভবনে রূপান্তরিত হয়েছে। বর্তমানে মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় আড়াই হাজারের বেশি মুসল্লী নামাজ আদায় করতে পারেন।মসজিদটির জৌলুস বাড়লেও কিছু নাগরিক বিড়ম্বনা রয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মসজিদটির জৌলুস ও জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়লেও আধুনিক নাগরিক সুবিধার অভাবে এখনো কিছু বিড়ম্বনা রয়ে গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, এখানে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরা একটি আধুনিক ওযুখানা না থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মসজিদের পাশেই একটি বিশাল পুকুর থাকলেও বর্তমানে তা ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে ওযুর পানির তীব্র সংকট দেখা দিচ্ছে।এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত মুসল্লিদের দাবি, ঐতিহ্যবাহী এই পুকুরটিকে দ্রুত সংস্কার করে একটি আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন ওযুখানা নির্মাণ করা হোক, যাতে মুসল্লীরা সুন্দর পরিবেশে পবিত্রতা অর্জন করে নামাজ আদায় করতে পারেন।রমজান মাসসহ বিশেষ দিনগুলোতে এখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। জেলার বাইরে থেকেও অনেক মুসল্লি আসেন এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণে মোনাজাত করা হয়।আরও পড়ুন: মোগল স্থাপত্যের নিদর্শন মুড়াপাড়ার শাহী মসজিদদীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এখানে নামাজ পড়ছেন ইরাদ মুন্সি। তিনি বলেন, 'দলবেঁধে সবাই একসঙ্গে নামাজ পড়ার আনন্দই আলাদা। তবে আমাদের প্রাণের দাবি, পুকুরটি বাঁচিয়ে এখানে যেন দ্রুত আধুনিক ওযুখানা করা হয়।'মসজিদটির মুয়াজ্জিন আব্দুল আউয়াল জানান, আযানের সুমধুর ধ্বনি শুনে ধর্মপ্রাণ মানুষ এক অদ্ভুত আকর্ষণে এখানে ছুটে আসেন।বাণিজ্যিক এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় মসজিদটির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। মসজিদের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন হাওলাদার বলেন, মসজিদটিকে ঘিরে ইতিহাসের শেষ নেই। বর্তমানে বেশ কিছু সমস্যা থাকলেও আমরা তা সমাধানের চেষ্টা করছি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে সমন্বয় করে মসজিদের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হবে।'