গরমের এ সময় দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখায় শরীরে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার সমস্যা দেখা দেয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই ইফতারে এমন কিছু খাবার ও পানীয়কে প্রাধান্য দিতে হবে যেসব খাবার ও পানীয় শরীরে পানিশূন্যতার সমস্যা ঠেকাতে পারে। পাশাপাশি শরীরে পানিশূন্যতা সমস্যার জন্য দায়ী এমন খাবার ও পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে।আমাদের শরীরে ৭০ শতাংশ পানি। দেহে এই ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিদিন একজন প্রাপ্ত বয়স্কের ৩ লিটার পানি পান করা উচিত। এর চেয়ে কম পরিমাণে পানি পান করলেই শরীরে ড্রিহাইড্রেশন সমস্যা দেখা দিতে পারে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, দীর্ঘ সময় রোজায় খাবার ও পানীয় গ্রহণে বিরত থাকায় শরীরে স্বাভাবিকভাবেই পানিশূন্যতা তৈরি হয়। তাই ইফতারের সময় ডায়েটে কোনটি প্রাধান্য দেবেন আর কোনটি প্রাধান্য দেবেন না, এক্ষেত্রে সঠিক সিদ্ধান্ত নিন। ডিহাইড্রেশন ঠেকাতে ইফতারে যা খাবেন ১। ইফতারে পানিযুক্ত ফল যেমন তরমুজ, কমলা, ডাব, আঙুর, খেজুর রাখার চেষ্টা করুন।২। লেবু, ইসবগুল, চিয়া সিড, বেলের শরবত ইফতারে রাখুন।৩। খেজুর, টকদই-চিড়া, স্যুপ এমন জাতীয় খাবার যা সহজে হজম হয় তা রাখুন।৪। শসা, টমেটো, লেটুস, পুদিনা এমন সবজি ইফতারে রাখার চেষ্টা করুন। আরও পড়ুন: ইফতারে শরবত তৈরিতে চিনি মেশাচ্ছেন, কী ক্ষতি জানেন? ডিহাইড্রেশন ঠেকাতে ইফতারে যা খাবেন না ১। ইফতারে চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় খাবেন না। এসব পানীয় শরীরে পানি ধরে রাখতে বাধা দেয়।২। অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, মশলাদার ও লবণাক্ত খাবার শরীরে পানির চাহিদা বাড়ায়। পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া হলে এসব খাবারে শরীর দ্রুতই পানিশূন্য হয়ে পড়ে।৩। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়ও শরীরের পানিশূন্যতা তৈরির জন্য দায়ী। তাই ইফতারে চিনিযুক্ত শরবত বা পানীয় খাওয়া এড়িয়ে চলুন। আরও পড়ুন: পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে সেহরিতে যা খাবেন পরামর্শ ইফতারে একবারে অনেকটা পানি খেতে যাবেন না। একসঙ্গে বেশি পরিমাণ পানি শরীর গ্রহণ করতে পারে না। তাই ধীরে ধীরে, বিরতি নিয়ে পানি পান করুন। শুধু পানি শরীর দীর্ঘ সময় ধরে রাখতে পারে না। তাই পানি গ্রহণের সময় পানিতে পুদিনা পাতা কিংবা সামান্য জিরা গুড়া অথবা ইসবগুল মিশিয়ে নিন। এতে দীর্ঘ সময় শরীর পানি ধরে রাখতে পারবে, ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা ঠেকানো সহজ হবে।