গর্ভাবস্থায় রোজা না রাখলে কি গুনাহ হবে?

​ইসলাম মানবিক ধর্ম। ইসলামের প্রতিটি বিধান মানুষের রুচি, সক্ষমতা ও সাধ্যের আওতাধীন। মানুষের জন্য সাধ্যের বাইরের কোনো বিধান ইসলাম কখনো দেয় না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহ কারো ওপর সাধ্যাতীত কোনো বোঝা (বিধান) চাপিয়ে দেন না। (সুরা বাকারা: ২৮৬)​মা-বোনদের জন্য গর্ভাবস্থার সময়টা অত্যন্ত নাজুক ও স্পর্শকাতর। সামান্য অবহেলায় অনাগত প্রাণের মৃত্যু ঘটার আশঙ্কা থাকে। গর্ভাবস্থায় তাদের চলতে হয় একটা নির্ধারিত নিয়মের ভেতর দিয়ে। তাই কোনো কোনো সময় অবস্থা পর্যবেক্ষণে মুসলিম ধর্মপ্রাণ অভিজ্ঞ চিকিৎসক তাদের রোজা পালন থেকে বিরত থাকতে বলেন। এমতাবস্থায় তাদের মনে থাকে নানান প্রশ্ন আমার জন্য রোজা রাখার হুকুম কী? আমার রোজা ছেড়ে দেওয়ার কারণে কি গুনাহ হবে? আমি এই রোজা কীভাবে আদায় করব? ​এই সমস্ত উত্তরে বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম বলেন, রোজা রাখার কারণে গর্ভবতী মহিলা যদি নিজের কিংবা সন্তানের প্রাণহানি বা মারাত্মক স্বাস্থ্যহানির প্রবল আশঙ্কা করেন, কিংবা কোনো ধর্মপ্রাণ অভিজ্ঞ চিকিৎসক তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রোজা না রাখার পরামর্শ দেন, তাহলে তার জন্য রোজা ভেঙে ফেলা বা না রাখা জায়েজ। পরে সুবিধাজনক সময়ে এ রোজার কাজা আদায় করে নেবেন। (আলমুহীতুল বুরহানী: ৩/৩৫৯, আদ্দুররুল মুখতার: ২/৪২২) ​হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্ভবতী মহিলাদের রোজা না রাখার স্পষ্ট অনুমতি দিয়েছেন। হযরত আনাস বিন মালেক রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা মুসাফিরের রোজা ও অর্ধেক নামাজ কমিয়ে দিয়েছেন। আর গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মহিলাদের রোজা বিধান স্থগিত করে দিয়েছেন। (তিরমিজি শরিফ: ৭১৫)