অর্ধ ডজন মামলা মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আত্মগোপনে ছিলেন মো. সাইফুল ইসলাম (৪০) নামে এক ব্যক্তি। অর্ধ ডজন মামলা মাথায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ছিলেন আত্মগোপনে। গ্রেফতার এড়াতে বাসাসহ আশপাশের এলাকায় স্থাপন করলেন সিসি ক্যামেরা। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জের সাতপাখি এলাকায় ধরা পড়লেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জালে।রোববার (১ মার্চ) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন। গ্রেফতার মো. সাইফুল ইসলাম লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বিঘা গ্রামের আলী আজমের ছেলে। মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, বাদী একটি পুরনো গাড়ি ক্রয়-বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের মালিক। ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এই ব্যবসা করে আসছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে সাইফুল ইসলাম ও প্রতারক চক্রের অন্য একজন সদস্য (পলাতক) জাল নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে প্রস্তুত করা মালিকানা হস্তান্তর সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রদর্শন এবং গাড়ির কথিত মালিকের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে একটি পুরনো গাড়ি বিক্রি করেন। এর মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নগদ এবং ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা চেকের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়। পরবর্তীকালে প্রকৃত মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিলে অনলাইনে যাচাই করে জানা যায়, গাড়িটির মালিকানা অন্য ব্যক্তির নামে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতারক চক্রটি পরস্পর যোগসাজশে জাল কাগজপত্র প্রস্তুত করে প্রথমে গাড়িটি বিক্রি করে এবং পরে কৌশলে অন্যের নামে মালিকানা পরিবর্তন করে আইনি জটিলতা তৈরি করে। পরে ক্রেতাকে হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। সংঘবদ্ধ প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে বাদী ক্যান্টনমেন্ট থানায় ২০২৪ সালের ৮ জুন মামলা করেন। আরও পড়ুন: পাবনায় দাদি-নাতনি হত্যা: মূল আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার হাতুড়ি-রড মামলাটি তদন্তেকালে সিআইডি জানতে পারে, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন রেন্ট-এ-কার মালিকদের কাছ থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে জাল মালিকানা চুক্তিনামা ও রশিদপত্র তৈরি করে তা বিক্রি করে আসছিল। গ্রেফতার আসামি নিজেকে বিভিন্ন কোম্পানির এমডি, বার্তা সম্পাদক ও চ্যানেলের পরিচালক পরিচয় দিতেন এবং তার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা শারমিনকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে প্রতারণার নানা কৌশল অবলম্বন করেন। প্রতারক চক্রটি পরস্পর যোগসাজশে জাল কাগজপত্র প্রস্তুত করে প্রথমে গাড়িটি বিক্রয় করে এবং পরে কৌশলে অন্যের নামে মালিকানা পরিবর্তন করে আইনি জটিলতা তৈরি করে থাকত। পরবর্তীকালে গাড়ির ক্রেতাকে হয়রানি, হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের পাশাপাশি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করে। আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে বৃদ্ধ গ্রেফতার সিআইডি জানায়, মামলা দায়েরের পর আসামি দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন এবং গ্রেফতার এড়াতে বাসাসহ আশপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে। অবশেষে সিআইডির কৌশলী অভিযানে তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃত প্রতারক মো. সাইফুল ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার অপরাধ স্বীকার করেছেন। মামলা সম্পর্কিত আরও তথ্য পেতে তাদেরকে পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ প্রয়োজনীয় পুলিশ প্রহরায় আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলমান।