ইরানের প্রবীণ রাজনীতিবিদ আলী লারিজানি, রোববার (১ মার্চ) বলেছেন, বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর একটি অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ গঠন করা হবে। তিনি গত বছর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পুনরায় আবির্ভূত হন।তিনি পারমাণবিক আলোচনা থেকে শুরু করে তেহরানের আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও ইরানের সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দেশটির শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় পরিবারের একজন সদস্য লারিজানি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রচেষ্টা তদারকি করেছেন। এর আগে ইরানে সরকার বিরোধী বিক্ষোভের উপর মারাত্মক দমন-পীড়নের নির্দেশ দেয়ার অভিযোগে জানুয়ারিতে ওয়াশিংটন তাকে নিষেধাজ্ঞা দেয়। আরও পড়ুন:খামেনি হত্যার প্রতিবাদে পাকিস্তানে মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ, নিহত ৯তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের বিরুদ্ধে, ইরানকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করার অভিযোগ এনেছেন এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তারা যদি কোনো পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করে তবে তাদের কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এসব তথ্য জানানো হয়।এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দোরহিম মুসাভিও হামলায় নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সম্প্রচারক ইরান টিভি। আগস্ট মাসে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন লারিজানি। তিনি খামেনির প্রতি আনুগত্য এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সাথে বাস্তবসম্মত সম্পর্ক রাখতে পারায় কর্মজীবনে উচ্চপদস্থ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার জন্য মধ্যস্থতাকারী ওমানে ভ্রমণের মাধ্যমে খামেনির বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে তার মর্যাদা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। লারিজানি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কূটনৈতিক তৎপরতা যেমন বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মিত্র মস্কোতেও বেশ কয়েকটি সফর করেছিলেন, যা উচ্চ-স্তরের কূটনীতিতে তার প্রত্যাবর্তনের আরও একটি লক্ষণ। পারমাণবিক ইস্যুতে তার কিছু প্রকাশ্য বক্তব্য বাস্তববাদী হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।‘আমার মতে, এই সমস্যাটি সমাধানযোগ্য’, লারিজানি গত মাসে ওমানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার কথা উল্লেখ করে বলেছিলেন। ‘যদি আমেরিকানদের উদ্বেগ হয় যে ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দিকে অগ্রসর না হয়, তবে তা সমাধান করা যেতে পারে।’ কিন্তু জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী ক্ষোভের ঝড়ের প্রেক্ষাপটে, ওয়াশিংটন তার নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকার নিন্দা জানায়। আরও পড়ুন:খামেনির মৃত্যুর পর দুবাই বিমানবন্দরে আবারও ইরানের হামলা অন্যান্য ইরানি কর্মকর্তাদের মতো, লারিজানিও অর্থনৈতিক দুর্দশা থেকে হওয়া ইরানের বিক্ষোভের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি ইরানের চিরশত্রু ইসরাইলের প্ররোচিত সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের নিন্দা করেছেন। সূত্র: রয়টার্স