পরকীয়া প্রেমিকের সহযোগিতায় শাশুড়িকে হত্যা করেন হালিমা

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে বৃদ্ধা পারুল বেগম হত্যার জট খুলেছে। পুত্রবধূ হালিমা আক্তার পরকীয়া প্রেমিক আশরাফুল ইসলাম মিঠুর সহযোগিতায় শাশুড়ি পারুল বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে তা ডাকাতির ঘটনা বলে চালিয়ে দেন।রোববার (১ মার্চ) চাঁদপুরের পুলিশ সুপার রবিউল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, কী কারণে বৃদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে- তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেয়া হয় পুলিশকে। তারপরই মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঘাতক আশরাফুল ইসলাম মিঠু ও তার প্রেমিকা পারুল আক্তারকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হাসনাইন সানীব জানান, প্রথমেই ভিকটিম পারুল বেগমের ছেলের স্ত্রী হালিমা আক্তার তার শাশুড়ির মৃত্যু নিয়ে অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন। এতে পুলিশের সন্দেহ হয়। কিন্তু পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা খুঁজে পায়। এরইমধ্যে মিঠু ও হালিমাকে গ্রেফতার করে। এ সময় পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মুখ খোলেন তারা দুজন।আরও পড়ুন: চাঁদপুরে বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধে হত্যা, পুত্রবধূকে বেঁধে মালামাল লুটমিঠু পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানান, হালিমা আক্তারের ইতালি প্রবাসী স্বামী নূরুল ইসলামের আত্মীয় সোহানের সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে টাকা উদ্ধারে হালিমা আক্তারের সহযোগিতা চাওয়া হয়। এতেই গত ৮ মাস আগে তাদের মধ্যে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে পথের কাঁটা শাশুড়ি পারুল বেগমকে সরাতে ডাকাতির ঘটনা সাজানো হয়।ঘটনার রাতে মিঠু হালিমা আক্তারের সহযোগিতায় তার বাড়িতে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে পারুল বেগম তাদের দেখে ফেলে। এ সময় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মিঠু। এ সময় ডাকাতির নাটক সাজাতে গিয়ে সামান্য কিছু স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে যায়। এমনকি হালিমা আক্তারেরও হাত পা বাঁধা হয়।আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে নিজ ঘরে স্বামী-স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যাতবে নির্জন বাড়ি হওয়ায় এমন ঘটনা খুব সহজেই করেন তারা বলে জানান, মতলব উত্তর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডল।তিনি বলেন, ‘মূল আসামিকে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এরইমধ্যে জব্দ করা হয়েছে।’এর আগে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বাগানবাড়ি ইউনিয়নের হাঁপানিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়।