রমজান মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। এ মাসে নফল ইবাদতের সওয়াব ফরজের সমান এবং ফরজের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, এমন আশা-প্রত্যাশা নিয়ে মুসলমানগণ ইবাদতে অধিক মনোযোগী হন। অধিক সওয়াবের এই প্রত্যাশা থেকেই সম্ভবত সমাজে একটি প্রচলণ তৈরি হয়েছে যে, জাকাত কেবল রমজান মাসেই আদায় করা। কিন্তু এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী?জাকাত আদায়ের মূলনীতি: বর্ষপূর্তির দিন জাকাত ফরজ হওয়ার শর্তগুলোর একটি হলো, নিসাব পরিমাণ সম্পদের উপর এক হিজরি বছর অতিবাহিত হওয়া (হাওল পূর্ণ হওয়া)। অর্থাৎ, যে দিন আপনার সম্পদ প্রথমবার নিসাব অতিক্রম করেছে, সেই দিন থেকে এক চন্দ্র বছর পূর্ণ হলে জাকাত ফরজ হবে। সম্পদ প্রথমবার নিসাব অতিক্রম করার এই দিনটিকে বলা হয় বর্ষপূর্তির দিন। জাকাত আদায়ের প্রকৃত নিয়ম হলো, জাকাত বর্ষপূর্তির দিনই তা আদায় করা। রমজান মাসের সঙ্গে এর আবশ্যিক কোনো সম্পর্ক নেই। কারও বর্ষপূর্তি যদি সফর মাসে হয়, তবে তার জন্য সফরেই জাকাত আদায় করা ওয়াজিব; যদি রবিউল আউয়ালে হয়, তবে সেই মাসেই আদায় করতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে বর্ষপূর্তির দিন অতিক্রম করে বিলম্ব করা শরীয়তসম্মত নয়। জাকাত হলো হক্কুল ইবাদ, বান্দার অধিকার; তাই এতে অবহেলা করা গুনাহের কারণ হতে পারে। তাই জাকাত আদায়ের সঠিক পদ্ধতি হলো, চন্দ্রবর্ষ হিসাবে নিজ নিজ জাকাতের বর্ষপূর্তির দিন স্মরণে রাখা ও সুনির্ধারিত রাখা এবং সেই দিন এলেই হিসাব করে জাকাত আদায় করা। আর কারো যদি বর্ষপূর্তির দিন স্মরণে না থাকে, তবে হিজরী মাস হিসাবে কোন একটি তারিখ নির্ধারণ করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে রমজানের কোন তারিখকেও নির্ধারণ করা যেতে পারে। সেই দিনকে বর্ষপূর্তির দিন ধরে পরবর্তী বছরগুলোর যাকাত হিসাব ও আদায় করবে। অতএব, সমাজের প্রচলন, রমজান এলেই জাকাত আদায় করতে হয় এটি সঠিক নয়। জাকাত বর্ষপূর্তির দিনই আদায় করা উচিত। রমজান এলে অতিরিক্ত সদকা, দান-খয়রাত, নফল ইত্যাদির মাধ্যমে সওয়াব অর্জনের সুযোগ তো রয়েছেই।