রমজানের অন্যতম বিধান রোজা রাখা। এমন কিছু বিষয় আছে, যার মাধ্যমে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না। অথচ অনেকে এগুলোকে রোজা ভঙ্গের কারণ মনে করেন। ফলে এমন কোনো কাজ হয়ে গেলে, রোজা ভেঙে গেছে মনে করে- ইচ্ছাকৃত পানাহার করেন।আবার কেউ কেউ এসব কাজ পরিহার করতে গিয়ে অযথা কষ্ট ভোগ করেন। সুতরাং এসব বিষয়ে সব রোজাদারের জানা আবশ্যক। এখানে রোজা নিয়ে প্রচলিত ৫টি ভুল ধারণা তুলে ধরছি: রোজা রেখে চুমু খেলে রোজা ভেঙে যাবে? অনেকেই মনে করেন রোজা রাখা অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী চুমু খেতে পারবে না বা জড়িয়ে ধরতে পারবে না। এ ধারণা সঠিক নয়। তবে শর্ত হলো, গোসল ফরজ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে রোজা ভেঙে যাবে। হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা রেখে স্ত্রীকে চুমু খেতেন, স্ত্রীর সঙ্গে আলিঙ্গন করতেন। (বুখারি, হাদিস: ১৮৪১) তবে গোসল ফরজ হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা থাকলে এমনটি করা মাকরুহ। বিশেষ করে যুবকদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এ ছাড়া রোজা যেহেতু পানাহার ও যৌনতা থেকে সংযমী হওয়ার মাস, তাই এ মাসে দিনের বেলায় রোজাদারদের যৌন উত্তেজক কাজ থেকে বিরত থাকা উচিত। (ইমদাদুল ফাতাওয়া, মিনহাতুল বারি: ৩৬৪ /৪) আরও পড়ুন: ফিতরা কার ওপর ওয়াজিবসেহরি ও ইফতারি করলেই রোজা কবুল হয়ে যাবে? শুধু সেহরি ও ইফতারি করলেই রোজা কবুল হয়ে যাবে- বিষয়টি এমন নয়। বরং রোজা রেখে মানতে হবে আরও কিছু বিষয়। যেসব কারণে রোজা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম কারো দুর্নাম রটানো, গুজবে অংশ নেয়া বা কাউকে গালিগালাজ করা অথবা গীবত করা, এসব কারণে রোজা কবুল না-ও হতে পারে। ভুল করে খেয়ে ফেললে রোজা ভাঙবে কী? ভুল করে কিছু খেয়ে ফেললে রোজা ভেঙে যায় কি না, তা নিয়ে অনেকেই সংশয়ে থাকেন। আপনি যদি সত্যিই একদম ভুলে কিছু খেয়ে ফেলেন, তাহলেও আপনার রোজা শুদ্ধ হবে, যদি আপনি বোঝার সঙ্গে সঙ্গে খাওয়া বন্ধ করে দেন। আবার অনেকে রোজা ভেঙে গেছে ভেবে, ইচ্ছে করে খাবার খান। রোজা রেখে ওষুধ ব্যবহার করা যাবে? ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, রোজা রেখেও কিছু ওষুধ ব্যবহার করা যাবে। যেমন: চোখের ড্রপ, কানের ড্রপ বা ইনজেকশন। এসব ব্যবহারে রোজা ভাঙবে না। তবে যেসব ওষুধ মুখে দিয়ে খেতে হয়, সেগুলো খেলে রোজা ভেঙে যাবে। সেহরির আগে এবং ইফতারের পর তা খেতে হবে। এছাড়া অসুস্থ থাকলে রোজা রাখা না-রাখার বিষয়টি অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর নির্ভর করবে। অসুস্থ, অন্তঃসত্ত্বা, দুর্বল, ভ্রমণকারীর জন্য রোজা রাখা আবশ্যক নয়। আরও পড়ুন: আজান দেয়নি, ইফতার করা যাবে? যেকোনো পরিস্থিতিতে রোজা রাখতে হবে? ইসলামি শরিয়তে শুধু প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ ব্যক্তির ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। শিশু, অসুস্থ, দুর্বল, ভ্রমণকারী, অন্তঃসত্ত্বা বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন এমন নারীর জন্য রোজা আবশ্যক নয়। যদি অল্প সময়ের জন্য কেউ অসুস্থ হন, তাহলে সুস্থ হওয়ার পর অন্য সময়ে তিনি ভাঙা রোজাগুলো পূরণ করে দিতে পারেন।