অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবে সংসদ

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ও একটি আদেশ নবগঠিত জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই উপস্থাপন করা হবে। এরপর সেখানে এগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ, অর্থাৎ পাস, সংশোধন বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার (১ মার্চ) সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন শুরু হলে প্রথম দিনেই এসব অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে। ‘উপস্থাপনের পর কোন কোন অধ্যাদেশ গ্রহণ করা হবে, কোনগুলো সংশোধনীসহ পাস হবে ও কোনগুলো বাতিল করা হবে সেসব সিদ্ধান্ত নেবে জাতীয় সংসদ। সংসদ সদস্যদের আলোচনার ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে। সংসদ অধিবেশন শুরু হলে আপনারা সবাই এ বিষয়ে অবহিত হবেন,’ যোগ করেন তিনি। এসময় এক সাংবাদিক উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাত দিয়ে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাইয়ে নিহত পুলিশ সদস্যদের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যেটা বলেছেন, সে অনুযায়ী চলবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ ব্যাপারে কিছু বলেছে? মহাসচিব কেন এ ব্যাখ্যা দিলেন, আমি জানি না। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিইনি। আমাদের মহাসচিব কী বলেছেন, আমি জানি না। এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দিইনি।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনাদের জানা আছে যে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে সুরক্ষা অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল। তার ভিত্তি ছিল, জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামার একটি দফা। সে দফায় সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদে যারা সই করেছে, তারা সবাই অঙ্গীকারনামার বিষয়ে একমত হয়েছে। সেটি ছিল, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, অংশগ্রহণ করেছে, তাদের আইনি সুরক্ষা দিতে হবে, সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে হবে। এসব অঙ্গীকারে আমরা সই করেছি। অঙ্গীকার করেছি।’ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আর কতদিন মাঠে থাকবেন- এ বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেনাবাহিনী নিজেরাও মাঠে থাকতে চায় না। কারণ, তাদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ডে সমস্যা হচ্ছে। সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনশৃঙ্খলার কতটা উন্নতি হয়েছে, তা দেখতে হবে। তবে এ মুহূর্তে বলতে পারছি না, মাঠ থেকে সেনাবাহিনী কবে প্রত্যাহার হবে। তবে অবশ্যই একসময় তোলা প্রয়োজন।’ টিটি/একিউএফ