মৃত্যু নিশ্চিতের পর মরদেহকে ধর্ষণ করে শরিফুল: পুলিশ

পাবনার ঈশ্বরদীতে দাদি ও নাতনিকে হত্যার ঘটনায় সেই জামিলার মৃত্যু নিশ্চিত করেই ধর্ষণ করে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম।রোববার (১ মার্চ) পাবনা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানিয়েছেন পাবনা পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ।এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা একটি বাঁশের গুঁড়ি, একটি হাতুড়ি ও একটি রড উদ্ধার করা হয়।পুলিশ সুপার জানায়, অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম জামিলার বাবার খালাতো ভাই। মাঝেমধ্যেই তিনি বাড়িতে যাওয়া আসা করতেন। কিন্তু গত সপ্তাহ ধরে তিনি জামিলাকে নানাভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে জামিলার বাড়িতে গিয়ে তার দাদিকে ডেকে তোলেন। এসময় বাড়ির বাইরের দরজা খুললে সরাসরি জামিলাকে নিয়ে বাড়ির বাইরে চলে যেতে লাগে। এসময় জামিলার দাদি সুফিয়া খাতুন আটকাতে লাগলে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।পুলিশ সুপার আরও জানায়, এসময় জামিলা চিৎকার চেঁচামেচি করতে লাগলে তাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। একপর্যায়ে জামিলা প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিলে তাকে ধাওয়া দিয়ে ধরে পাশের একটি গমের ক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে জামিলা চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে তার মাথায় বাঁশের গুঁড়ি দিয়ে আঘাত করেন শরিফুল ইসলাম। এসময় সেখানেই মারা যায় জামিলা।আরও পড়ুন: পাবনায় দাদি-নাতনি হত্যা: ‍মূল আসামি গ্রেফতার, উদ্ধার হাতুড়ি-রডমৃত্যু নিশ্চিত করে জামিলার মরদেহ ধর্ষণ করার বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ‘মূলত ধর্ষণের উদ্দেশ্যেই জামিলাকে নিয়ে যাওয়া হলেও আঘাতে আঘাতে জামিলা মারা যায়। পরে মরদেহকেই ধর্ষণ করে গা ঢাকা দেয় শরিফুল।’এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটলে পরদিন সন্দেহভাজন শরিফুল ইসলামকে বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ঘটনার সঙ্গে একক সংশ্লিষ্ট থাকার কথা জানান তিনি। ওইদিনই রাত ১২টার দিকে নিহত সুফিয়া খাতুনের মেয়ে মর্জিনা খাতুন অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে একটি মামলা দায়ের করেছেন।স্থানীয় ও পুলিশ জানায়, গত ২৭ তারিখ মধ্যরাতে হঠাৎ কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে রাস্তায় বের হয় স্থানীয়রা। পরে কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে বাড়িতে চলে যান তারা। পরে সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। একপর্যায়ে জামিলাকে খোঁজাখুঁজির পর বিবস্ত্র অবস্থায় সরিষার ক্ষেতে তার মরদেহ পান তারা। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে।নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা জানান, জামিলা আক্তারের বাবার সঙ্গে মায়ের অনেক আগেই ডিভোর্স হয়েছে। তিন বোনের মধ্যে জামিলা সবার ছোট। ছোট থেকেই জামিলা দাদীর সঙ্গে থাকতো। বাবা জয়নাল খাঁ বেশ কিছুদিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। বাড়িতে দাদি সুফিয়া খাতুন এবং নাতনী জামিলা একাই থাকতেন। জামিলা কোরআনের হাফিজিয়া পড়ার পাশাপাশি পাশের একটি দাখিল মাদ্রাসায় ৯ম শ্রেণিতে পড়াশোনা করতো।