মাঠে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ফিফা, আসছে নতুন নিয়ম

ফুটবল মাঠে খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং খেলার গতি বাড়াতে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ফিফা। এখন থেকে ম্যাচ চলাকালীন সময়ে প্রতিপক্ষের সাথে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখা যাবে না। সেই সাথে সময় অপচয় রোধে সাবস্টিটিউশনের জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১০ সেকেন্ডের সময়সীমা। ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে ওয়েলসে অনুষ্ঠিত আইএফএবি-এর সভায় নেওয়া হয়েছে এমন সব বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত।সবুজ গালিচায় ফুটবলের উন্মাদনা আরও বাড়াতে এবং অখেলোয়াড়সুলভ আচরণ বন্ধে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ওয়েলসে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড বা আইএফএবি-এর ১৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় পাস হয়েছে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম। যেখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মাঠে খেলোয়াড়দের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর।  মূলত সম্প্রতি চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির মধ্যে ঘটে যাওয়া তিক্ত অভিজ্ঞতার পরই এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে ফিফা। সেই ম্যাচে মুখ ঢেকে গালি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় প্রমাণের অভাবে রেফারিদের কাজ কঠিন হয়ে পড়েছিল। এখন থেকে এমন আচরণ করলেই পড়তে হবে শাস্তির মুখে।  আরও পড়ুন: দোষ প্রমাণিত হলে বেনফিকায় আর্জেন্টাইন তারকার ক্যারিয়ার শেষ করে দেবেন মরিনিয়ো ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমরা আইএফএবি-এর সভায় গেমের প্রতি সম্মান বজায় রাখার বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছি। খেলোয়াড় এবং কোচদের আচরণ এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বিশ্বের কোটি কোটি শিশুর কাছে আদর্শ। তাই বর্ণবাদ বা বৈষম্যের মতো ঘটনা রুখতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এখন থেকে কোনো খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের সাথে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখতে পারবে না।’  শৃঙ্খলার পাশাপাশি গতিময় ফুটবল উপহার দিতে সময় অপচয়ের বিরুদ্ধেও যুদ্ধ ঘোষণা করেছে ফিফা। এখন থেকে বদলি খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়তে হবে সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ডের মধ্যে। যদি কোনো ফুটবলার এই সময়ের মধ্যে মাঠ থেকে বের হতে ব্যর্থ হন, তবে তার পরিবর্তে নামতে যাওয়া খেলোয়াড়কে তাৎক্ষণিক মাঠে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া থ্রো-ইন বা গোল কিকের সময়ও থাকবে নির্দিষ্ট কাউন্টডাউন।  আরও পড়ুন: কমলাপুর স্টেডিয়ামে অব্যবস্থাপনায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ক্ষোভ, দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমরা ফুটবলের আইনগুলোতে কিছু পরিবর্তন এনেছি যেন খেলাটি আরও দ্রুত এবং দর্শকদের জন্য রোমাঞ্চকর হয়। সময় অপচয় কমানো এবং ফুটবলকে আরও বিনোদনমূলক করা আমাদের লক্ষ্য। ইনজুরিতে কেউ পড়ে থাকলেও তাকে দ্রুত মাঠের বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে। এটি ফুটবলকে আরও স্বচ্ছ করবে।’  এখন থেকে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর-এর পরিধিও বাড়ছে আরো। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও এখন থেকে ভিএআর-এর মাধ্যমে সংশোধন করা যাবে। ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকেই বিশ্বজুড়ে সব টুর্নামেন্টে কার্যকর হবে ফুটবল ইতিহাসের এই আধুনিক আইনগুলো।