বগুড়ায় সাংবাদিক পরিচয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের দৌরাত্ম্য বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও পত্রিকার জাল পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের ঘটনা ঘটছে। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি মূলধারার গণমাধ্যমের নাম ও লোগোর আংশিক বিকৃতি করে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছে। বিশেষ করে সময় টিভি, একাত্তর টিভি ও এখন টিভির নাম বিকৃত করে এখন সময়, একাত্তর বাংলা টিভি ও বগুড়ার সময়ের নামে ভুয়া পরিচয়পত্র তৈরি করা হচ্ছে। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, পাশাপাশি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছেন পেশাদার সাংবাদিকরা।অভিযোগ আছে, এসব চক্র কখনও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ‘অনিয়মের খবর প্রচার’ করার হুমকি দেয়, কখনও আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘সংবাদ প্রকাশের' ভয় দেখিয়ে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।এইসব কথিত সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য থামাতে বগুড়ায় যৌথ বিবৃতি দিয়েছে প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক ইউনিয়ন।বগুড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু, সাধারণ সম্পাদক কালাম আজাদ, সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়ার সভাপতি গনেশ দাস ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সাঈদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বগুড়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কিছু ব্যক্তি নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি ও নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন বলে প্রতিনিয়ত অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে প্রকৃত গণমাধ্যম কর্মীদের পেশাগত মর্যাদা, মান সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং জনআস্থা বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হচ্ছে।তারা আরও বলেন, সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল, নীতিনিষ্ঠ ও জনকল্যাণমূলক পেশা; এখানে সততা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি, গণমাধ্যমকর্মীদের একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা, যথাযথ নিবন্ধন ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।আরও পড়ুন: প্রেমিক যুগলকে জিম্মি করে অর্থ আদায়, দুই ভুয়া সাংবাদিক কারাগারেজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করে প্রকৃত সাংবাদিক ও ভুয়া পরিচয়ধারীদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করা হোক এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য, স্বচ্ছ ও কার্যকর প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে হবে।বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, গণমাধ্যমের মর্যাদা ও জনআস্থা রক্ষায় আমরা প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই এরা সাংবাদিক নয়, এরা পেশার নামে প্রতারক এবং প্রকৃত চাঁদাবাজ। তাদের কর্মকাণ্ড গণমাধ্যমের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করছে এবং প্রকৃত সাংবাদিকদের কাজকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।অতএব, প্রশাসনের প্রতি আমাদের জোর দাবি, অবিলম্বে এসব ভুয়া ও কথিত সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে। গণমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কোনো অপকর্ম বরদাশত করা হবে না বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।