প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলবে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবে লাল-সবুজের মেয়েরা। তাদের আক্রমণের ঝড় সামাল দিতে রক্ষণভাগ ও গোলকিপারকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দলের গোলরক্ষকেরাও প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ দলের গোলকিপিং কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল।সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আর এশিয়ান কাপ— দুটি মঞ্চ একেবারেই ভিন্ন। এশিয়ান কাপে শক্তিশালী চীন-কোরিয়াদের সঙ্গে লড়াইটাও যে সহজ হবে না, তা আর নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়ারও বোধহয় প্রয়োজন নেই। তবে বাংলাদেশ দলটাও যে একেবারে দুর্বল, তা কিন্তু নয়। শক্ত মনোবলই তাদের নিয়ে এসেছে এশিয়ানের মঞ্চে। এশিয়ান কাপ অভিযানে নামার আগে বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের সামনে অনুপ্রেরণা হয়ে ফিরে এসেছে ২০২৪ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনাল। সেবার শিরোপা জয় কঠিন হয়ে পড়লেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ পূরণ করেই দেশে ফিরেছিলো লাল সবুজ। সিডনির জুবলি স্টেডিয়ামে কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বলও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন সে কথা মনে করে। শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে কি করবে বাংলাদেশ, সেটা আগে থেকেই ধারণা করা কঠিন তার কাছে। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের মেয়েরা সত্যিই হয়ে উঠেছে আনপ্রেডিক্টেবল। এত বড় মঞ্চে হারানোর কিছুই নেই। ভালো করতে পারলে বিশ্ব সেরা ক্লাবগুলোতে দরজা খুলতে পারে ঋতুপর্ণাদের সেটা জানে বলেই ফুটবলারদের মাঝে জ্বলে ওঠার তাগিদ বেশি থাকবে বলে মনে করেন কোচ। চীনা ঝড়ে গোলরক্ষকরা যেন কাবু না হয়, সে কৌশলেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন কোচিং স্টাফ। আরও পড়ুন: দোষ প্রমাণিত হলে বেনফিকায় আর্জেন্টাইন তারকার ক্যারিয়ার শেষ করে দেবেন মরিনিয়ো সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে রোববার (১ মার্চ) প্রস্তুতি সেরেছে বাংলাদেশ। তিন গোলকিপার নিয়ে বরাবরের মতোই আলাদা অনুশীলনে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন উজ্জ্বল। সেট-পিস, দূরপাল্লার শট আটকানোর অনুশীলনে কোচ দিয়েছেন বাড়তি মনোযোগ। প্রস্তুতি শেষে উজ্জ্বল বললেন, অগ্নিপরীক্ষার জন্য প্রস্তুত তার তিনজনই। ‘আমি লং রেঞ্জের শটের প্র্যাকটিসটা অনেক আগে থেকেই করছি। গ্রুপিং হওয়ার পর থেকেই দেখেছি ওরা (চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান) কোথা থেকে অন টার্গেট শুটিং করে বা কোন কোন অ্যাঙ্গেল থেকে কিভাবে ওরা ফিনিশিং টাচগুলো করে। তো ওগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। ওগুলো নিয়ে ভালো কাজ হয়েছে এবং দূরপাল্লার শটে আমার মনে হয় না খুব একটা সাফার করবে গোলকিপাররা। সেট-পিসের … যেগুলো দেখানোর, আমরা যেভাবে সামলায়, সেগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে। আগামীকাল হয়তো আমরা ডিফেন্ডিং সেট-প্লেগুলো নিয়ে আরও বিশদভাবে কাজ করব। ইন্ডিভিজুয়াল ভূমিকায় কে যাচ্ছে, কে যাচ্ছে না এগুলো বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’ পোস্টে মূল ভরসা রূপনা। সবশেষ উইমেন’স ফুটবল লিগে রাজশাহী স্টার্স অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে ‘ক্লিনশিট’ রাখেন সব ম্যাচেই। ১১ ম্যাচের মধ্যে ১০ ম্যাচ পোস্ট আগলে রেখেছিলেন রূপনা; এক ম্যাচ মিলি। উজ্জ্বলের বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়ায় তার গোলকিপাররা মৌলিক বিষয়গুলোর ঠিকঠাক রাখতে পারলে গোল হজমের সম্ভাবনা কমবে। আরও পড়ুন: সমালোচনার মুখে অস্ট্রেলিয়ায় স্থানীয় বাংলাদেশি ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ দিলো বাফুফে ‘টেকনিক্যালি যে সমস্যাগুলো আমি ফেস করি ওদের নিয়ে, সেগুলোর উপরই জোর দিচ্ছি। ওরা যদি বেসিক জিনিসটা ঠিক রাখে, মিস করার চান্স কম। তো আমি ওদের আত্মবিশ্বাস দিচ্ছি, সারা বছর ধরে আমরা যেই জিনিসগুলো শিখেছি, ওই সঠিক জিনিসটাই যদি আমরা করি, তাহলে ভুলভ্রান্তি কম হবে। আর ভুলভ্রান্তি কম হলে আমাদের গোল কনসিড করার সুযোগটা কমে আসবে। তাই খেলোয়াড়রা অনুপ্রাণিত।’ ‘যখন কোয়ালিফাই করেছি, যখন গ্রুপিং হয়েছে, তখন থেকেই চীন, উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তান নিয়ে আমাদের কাজ হচ্ছে। প্রতিনিয়ত আমরা ম্যাচ দেখছি, ওদের স্ট্রং পয়েন্টগুলো ও আমাদের দুর্বল দিকগুলো নিয়ে কাজ করার চেষ্টা চলছে। এমনকি, আজকের ট্রেনিং সেশনেও প্রত্যেকটা জোনে বা প্রত্যেকটা জায়গায়, ইন্ডিভিজুয়ালি প্রত্যেকের দায়িত্ব, ভূমিকা আমরা বুঝানোর চেষ্টা করছি। আমরা যদি প্রত্যেকটা জিনিস, ভূমিকা পালন করতে পারি বা টেকনিকগুলো মেইনটেইন করতে পারি, আমাদের ভুল করার সুযোগ কম থাকবে এবং বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে আমরা বেঁচে যাব।’