ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর মেহরানে একটি সীমান্ত রেজিমেন্টের সদরদফতরে ইসরাইলি-মার্কিন হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৩ সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। শহরটি ইরাক সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে রোববার (১ মার্চ) এ খবর জানায় আল জাজিরা।সংবাদ সংস্থা মেহর-এর খবরে বলা হয়েছে, হামলায় ৪৩ জন নিরাপত্তা সদস্য শহীদ হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই সীমান্তরক্ষী। পাশাপাশি আশপাশের ভবনের কিছু অংশও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন মতে, এই ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নিস্ট শাসনব্যবস্থা’র এজেন্টদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। ইরান সাধারণত ইসরাইলকে উল্লেখ করতে ‘জায়নিস্ট শাসনব্যবস্থা’ শব্দটি ব্যবহার করে। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যে আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হামলা শুরু করে ইসরাইল। সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ ঘটে। আরও পড়ুন: ইসরাইলের বহুস্তরভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘দুর্ভেদ্য নয়’, দেখালো ইরান হামলার পরপরই ইরান পাল্টা জবাব দেয়। ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী কাজ করে এমন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। এতে ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এসব বিস্ফোরণ সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতির অংশ, যেখানে উভয় পক্ষই প্রতিহত ও পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে এবং এতে সাধারণ নাগরিক এলাকা ও সামরিক লক্ষ্যবস্তুর ওপর প্রভাব পড়ছে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। রোববার সকাল পর্যন্ত ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং রাষ্ট্রীয় সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়, চলমান হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন এবং কমপক্ষে ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন। আরও পড়ুন: এবার ইরানের যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেয়ার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পাশাপাশি কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। ইরান দেশব্যাপী ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করেছে। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড স্বীকার করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে হামলায় ইসরাইলের বেইত শেমেশ শহরে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন।