মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নেতারা তার সঙ্গে আলোচনা করতে চান এবং তিনিও আলোচনা করতে রাজি হয়েছেন। ইরানে সামরিক আগ্রাসন শুরুর একদিন পর রোববার (১ মার্চ) সকালে এক সাক্ষাৎকারে এমনটা দাবি করেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক।দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদন মতে, ট্রাম্প মার-এ-লাগো রিসোর্ট থেকে সকাল ৯:৩০-এর দিকে ফোনে বলেন, ‘তারা কথা বলতে চায়, এবং আমি কথা বলার জন্য রাজি হয়েছি, তাই আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব। তারা আগে করতে পারত। যা করা খুবই বাস্তবসম্মত ও সহজ ছিল, তা তারা আগে করতে পারত। তারা খুব দেরি করেছে।’ আলোচনা আজ হবে নাকি আগামীকাল এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তা বলতে পারব না।’ তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আলোচনায় যুক্ত অনেক ইরানি এখন আর জীবিত নন। তার কথায়, ‘যারা আমরা আগে কাজ করছিলাম, তাদের বেশির ভাগ চলে গেছে। এটি একটি বড়—একটি বড় আঘাত ছিল।’ এদিকে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদিকে জানিয়েছেন যে, তেহরান ‘উত্তেজনা প্রশমনে যেকোনো প্রচেষ্টার’ জন্য প্রস্তুত। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক পারমাণবিক আলোচনায় ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল এবং আল বুসাইদি গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, আরাঘচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা ‘পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বৃদ্ধির কারণ’। আরও পড়ুন: ইসরাইলি-মার্কিন হামলায় ইরানের ৪৮ নেতা নিহত, দাবি ট্রাম্পের পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হামলা শুরু করে ইসরাইল। সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ ঘটে। হামলার পরপরই ইরান পাল্টা জবাব দেয়। ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী কাজ করে এমন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। এতে ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। গত দুইদিন ধরে তীব্র লড়াই চলছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। রোববার সকাল পর্যন্ত ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং রাষ্ট্রীয় সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়, চলমান হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন এবং কমপক্ষে ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পাশাপাশি কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন। রোববার সকালে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুলরহিম মুসাভি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছেন। আরও পড়ুন: ইরানে হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা নেতানিয়াহুর মুসাভি জুন ১৩ তারিখে এই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরির স্থানে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যিনি গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে নিহত হন। ইরানের পুলিশ গোয়েন্দা কেন্দ্রের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম রেজা রেজাইয়ানও এই হামলায় শহীদ হয়েছেন। এর আগে ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানায়, সুপ্রিম ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিলের সচিব অ্যাডমিরাল আলি শামখানি এবং ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌরও শনিবারের যৌথ হামলায় শহীদ হয়েছেন। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড স্বীকার করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘর্ষে তিনজন মার্কিন সেনা নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। অন্যদিকে হামলায় ইসরাইলের বেইত শেমেশ শহরে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন।