নির্বাচন ঘিরে ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে থাকা নগদ টাকার পরিমাণ বেড়েছে। টানা পাঁচ মাস কমার পর গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এ প্রবণতায় পরিবর্তন দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, নভেম্বর মাসে ব্যাংকের বাইরে মানুষের হাতে থাকা নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৬৯ হাজার ১৮ কোটি ২ লাখ টাকা। ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৩ কোটি ৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক মাসে নগদ টাকা বেড়েছে ৬ হাজার ৩২৫ কোটি ২ লাখ টাকা। ব্যাংক থেকে তুলে নেওয়ার পর যে অর্থ আর ব্যাংকে ফেরত আসে না, সেটিকেই ব্যাংকের বাইরে থাকা নগদ টাকা হিসেবে গণ্য করা হয়। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নির্বাচনি ব্যয়ের কারণেই ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকার পরিমাণ বেড়েছে। তার ভাষ্য, নির্বাচনে প্রার্থীদের নানান খাতে ব্যয় করতে হয়। এজন্য অনেকেই ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছেন। ব্যাংকের প্রতি আস্থার সংকটের কারণে এটি হয়েছে, এমনটি বলা যাবে না। আরও পড়ুনইইউ বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের হিস্যা এখন ২১.৫৭ শতাংশ মার্চে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মানুষের হাতে থাকা নগদ টাকার পরিমাণ কমতে শুরু করে এবং তা টানা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। মার্চে সাময়িক বৃদ্ধি পেলেও এপ্রিল মাসে আবার কমে। মে ও জুনে বাড়ার পর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আবার ধারাবাহিকভাবে কমছিল। এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সময়জুড়ে ব্যাংকের বাইরে নগদ টাকার পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছিল। ওই সময় দশ মাসে মোট ৪৬ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পায়। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ব্যাংক খাতে আস্থার সংকটের প্রভাব তখন নগদ অর্থ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছিল। মানুষের হাতে নগদ টাকার পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি বাজারে মুদ্রা সরবরাহও বেড়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, নভেম্বর মাসে রিজার্ভ মানির পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৫ হাজার ৩৫২ কোটি ২ লাখ টাকা। ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৩২৪ কোটি ৮ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক মাসে রিজার্ভ মানি বেড়েছে ৩০ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা। সার্বিকভাবে, নির্বাচনের প্রাক্কালে নগদ টাকার চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিসেম্বর মাসে ব্যাংকের বাইরে অর্থের পরিমাণ ও মুদ্রা সরবরাহ- দুই সূচকেই উল্লম্ফন দেখা গেছে। ইএআর/কেএসআর