ইসরাইলি-মার্কিন হামলায় সাত ইরানি সামরিক কমান্ডার নিহত

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান হামলায় ইরানের সাতজন সামরিক কমান্ডার নিহত হয়েছেন।প্রকাশিত তালিকায় আধা সামরিক বাহিনী বাসিজের মেজর জেনারেল শহীদ মোহাম্মদ শিরাজির নাম রয়েছে। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের দফতরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া জেনারেল শহীদ সালেহ আসাদিও নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের গোয়েন্দা উপপ্রধান ছিলেন। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুল রহিম মুসাভি, ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌর, ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব আলি শামখানি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হন। এছাড়া শনিবারের ওই হামলায় ইসলামিক বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও নিহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গত দুই দিনের হামলায় ৪৮ ইরানি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যে সাফল্য পাচ্ছি তা কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না। এক ধাক্কায় ৪৮ জন নেতা মারা গেছেন এবং এটি দ্রুত এগিয়ে চলেছে।’ আরও পড়ুন: ইরানে হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা নেতানিয়াহুর ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরানের নেতারা তার সঙ্গে আলোচনা করতে চাইছেন এবং তিনিও আলোচনা করতে রাজি হয়েছেন। দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদন মতে, ট্রাম্প মার-এ-লাগো রিসোর্ট থেকে সকাল ৯:৩০-এর দিকে ফোনে বলেছেন, ‘তারা কথা বলতে চায়, এবং আমি কথা বলার জন্য রাজি হয়েছি, তাই আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব। তারা আগে করতে পারত। যা করা খুবই বাস্তবসম্মত ও সহজ ছিল, তা তারা আগে করতে পারত। তারা খুব দেরি করেছে।’ আলোচনা আজ হবে নাকি আগামীকাল এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তা বলতে পারব না।’ তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আলোচনায় যুক্ত অনেক ইরানি এখন আর জীবিত নন। তার কথায়, ‘যারা আমরা আগে কাজ করছিলাম, তাদের বেশির ভাগ চলে গেছে। এটি একটি বড়—একটি বড় আঘাত ছিল।’ এদিকে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদিকে জানিয়েছেন যে, তেহরান ‘উত্তেজনা প্রশমনে যেকোনো প্রচেষ্টার’ জন্য প্রস্তুত। আরও পড়ুন: পশ্চিম ইরানে হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৩ সদস্য নিহত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক পারমাণবিক আলোচনায় ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল এবং আল বুসাইদি গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, আরাঘচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা ‘পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বৃদ্ধির কারণ’।