চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি, ‘ব্যর্থতা মেনে নিয়ে’ অভিযানে পুলিশ

চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি চালানো সন্ত্রাসীরা শহরের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করছে বলে পুলিশের ধারণা। তবে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো শহরের মধ্যেই কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে। এসব অস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে কেনা অথবা পুলিশের কাছ থেকে লুট করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে, সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুরো শহরজুড়ে একযোগে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগরীর চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এর আগে গত ২ জানুয়ারিও একই বাড়িতে গুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনার মধ্যে রোববার ঢাকার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ব্যবসায়ীর বাসায় গুলির ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসীদের একটি গ্রুপকে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর নড়েচড়ে বসে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। রোববার রাত ১১টায় দামপাড়ায় সিএমপি কার্যালয়ে অভিযান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। তিনি ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলির ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দুই দফায় গুলির ঘটনাকে পুলিশের ব্যর্থতা হিসেবেও স্বীকার করেন। আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলি সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আস্থা ফেরাতে নগরীর ১০টি স্থানে একযোগে অভিযান শুরু করা হয়েছে। এ ঘটনায় নগরবাসীর আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। এটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে পুলিশ, তবে এটিকে ব্যর্থতা হিসেবে মেনেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পুলিশ দাবি করেছে, গুলিবর্ষণকারীদের শনাক্ত করা হয়েছে এবং তারা পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করছে। তাদের আস্তানায় গোয়েন্দা অভিযানও চালানো হয়েছে। তবে তারা অস্ত্র সঙ্গে নেয়নি, অস্ত্রগুলো শহরের কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে এবং সেগুলোও চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অস্ত্র পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে কেনা অথবা পুলিশের কাছ থেকে লুট করা হতে পারে। সংবাদ সম্মেলনের পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে পুলিশের একাধিক দল। নগরীর ১৬টি থানা এলাকায় ১০টি টিম ভাগ হয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তি, মাদকের আস্তানা ও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।