ইরানে নিজেদের দূতাবাস বন্ধ করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সেই সঙ্গে রাষ্ট্রদূতসহ সব কূটনীতিক প্রত্যাহার করছে। ইরানের অব্যাহত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েল এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে।আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আফরা আল হামেলি রোববার (১ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানে তার দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করছে এবং রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক মিশনের সকল সদস্য প্রত্যাহার করছে এবং ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার নিন্দা জানাচ্ছে।’ আল হামেলি আরও বলেন, ‘ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দেশের বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্যবস্তু করার জবাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর, বন্দর ও সেবামূলক স্থাপনায় আগ্রাসী হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় নিরীহ মানুষ বিপদের মুখে পড়েছে।’ পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হামলা শুরু করে ইসরাইল। সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ ঘটে। আরও পড়ুন: ইসরাইলি-মার্কিন হামলায় সাত ইরানি সামরিক কমান্ডার নিহত হামলার পরপরই ইরান পাল্টা জবাব দেয়। ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী কাজ করে এমন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। এতে ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। ইরানের পাল্টা সামরিক অভিযানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে একজন বাংলাদেশিসহ এখন পর্যন্ত তিন জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া ৫৮ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এছাড়া হামলায় ১৬৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে জানিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এর মধ্যে ১৫২টি ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রও প্রতিহত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, মোট ৫৪১টি ইরানি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫০৬টি প্রতিহত ও ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। আরও পড়ুন: ইরানে অভিযান চলবে চার সপ্তাহ বা তার কম: ট্রাম্প