কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে নারী-শিশুসহ ১৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার সাচাইল ইউনিয়নের সাচাইল গ্রাম, এলএসডি রোড, কাইকরহাটি, বেলংকা রোড ও বাজারসংলগ্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে এ ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে সাচাইল গ্রামে হঠাৎ একটি বেওয়ারিশ কুকুর তেড়ে এসে পথচারীদের কামড়াতে শুরু করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে লোকজন কুকুরটিকে ধাওয়া করলে সেটি বিভিন্ন এলাকায় ছুটে গিয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ একাধিক ব্যক্তিকে কামড়ে আহত করে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয়রা তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন দেন। গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে পাঠানো হয়। ঘটনার পর সাচাইল ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বেওয়ারিশ কুকুর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রাত ৮টার পর থেকে অনেককে লাঠিসোটা নিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এলএসডি রোড এলাকায় কয়েকজন যুবক কুকুরটিকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে নিশ্চিত করেন সাচাইল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সংগ্রাম ভৌমিক। সাচাইল গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, কুকুরটি গ্রামের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে গিয়ে একাধিক ব্যক্তিকে কামড়ায়। আমবিয়া নামের এক নারীর হাতের আঙুলে কামড় দেয় এবং অন্যদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রবিউল ইসলাম বলেন, তিনি রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় পেছন থেকে কুকুরটি তাকে কামড়ায়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। স্কুলশিক্ষার্থী আরমান হোসেন জানায়, বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় উঠতে কুকুরটি তার ডান পায়ে কামড় দেয়। পরে হাসপাতালে এসে সে প্রতিষেধক ভ্যাকসিন নেয়। কাইকরহাটি গ্রামের আলাল মিয়া বলেন, সকাল থেকে তাদের এলাকায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জনকে কামড়ায় কুকুরটি। তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা শাহানুর রহমান শুভ জানান, অধিকাংশ আহতকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও টিকা দিয়ে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। গুরুতর চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এসকে রাসেল/আরএইচ/জেআইএম