ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বার্ষিক ইফতার মাহফিলের মেনুতে গরুর মাংসের পরিবর্তে মুরগী রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ইফতার বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য প্রত্যাশা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার (১ মার্চ) রাতে ইফতারের মেনু চূড়ান্ত করতে ঢাবির প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে জানানো হয়, এ বছরের বার্ষিক ইফতারে গরুর মাংস রাখা হচ্ছে না। এ সিদ্ধান্ত প্রকাশের পরপরই বিভিন্ন হল সংসদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ইফতার বর্জনের ঘোষণা দেন। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর রমজান মাসে একদিন শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার ও রাতের খাবারের আয়োজন করে কর্তৃপক্ষ। চলতি বছর ৪ মার্চ বার্ষিক ইফতারের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাজেট স্বল্পতার কারণ দেখিয়ে এবারের মেনুতে পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বয়কটের ঘোষণা দিয়ে শহীদ ওসমান হাদি হল সংসদ (প্রস্তাবিত)-এর জিএস আহমদ আল সাবাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে হলের বার্ষিক ইফতার ও রাতের খাবারে গরুর মাংস অন্তর্ভুক্ত না করায় তারা ইফতার বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের জিএস মো. ইমামুল হাসান জানান, তারা প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন কমিটির সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত নতুন সভা ছাড়া পরিবর্তন সম্ভব নয়। পরে অনলাইনে জরুরি সভা হলেও গরুর মাংস না রাখার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। তিনি আরও বলেন, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে গরুর মাংস দেওয়া হয়েছে। এবারও বেশিরভাগ হল প্রভোস্ট এতে সম্মত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে সভায় সিদ্ধান্ত কার্যকর না হওয়ায় প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান তারা। কবি জসিমউদদীন হল সংসদের ভিপি মু. ওসমান গনী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে দেখছে। তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হুসাইন আল মারুফ বলেন, ডিনস কমিটি ও প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভায় শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষিত হচ্ছে। রমজানে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিতের দাবি ও ইফতারে গরুর মাংস সংযোজনের দাবিও অগ্রাহ্য করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের বলেন, বিষয়টি অনেকের কাছে তুচ্ছ মনে হলেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। তার দাবি, গরুর মাংস উপমহাদেশে একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ও কবি জসিম উদ্দীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শাহিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, অধিকাংশ প্রভোস্ট জানিয়েছেন পূর্বের মেনু অনুযায়ী প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং অনেকেই অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করে পণ্য কিনে ফেলেছেন। সময় স্বল্পতার কারণে মেনু পরিবর্তন সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, অধিকাংশ হলের ছাত্র সংসদের আপত্তি ছিল না যদি সব হলে একই মেনু থাকে। সার্বিক দিক বিবেচনায় পূর্বের মেনুই বহাল রাখা হয়েছে। তবে আগামী পহেলা বৈশাখে গরু ভোজের আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি। এফএআর/এমআরএম