ইরানের নতুন নেতৃত্ব যদি নিজেকে একজন বাস্তববাদী অংশীদার হিসেবে প্রমাণ করতে পারলে, তবে দেশটির ওপর থেকে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র। জনপ্রিয় মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন তথ্য জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও, বর্তমান সরকারকে হটিয়ে নতুন কাউকে ক্ষমতায় বসানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনো সামরিক সমর্থন দেবে কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি। তিনি বলেন, আমি এখনই কোনো দিকেই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না এটি খুব দ্রুত হয়ে যায়। আমাদের কিছু কাজ করার ছিল এবং আমরা তা খুব ভালোভাবে করেছি। আমি বলবো, আমরা নির্ধারিত সময়ের চেয়েও অনেকটা এগিয়ে আছি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি চিরতরে নির্মূল করতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানসহ ইরানের প্রধান শহরগুলো বর্তমানে এই হামলার শিকার। যৌথ এই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং আরও বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর ইরানে ৪০ দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বড় ধরনের পাল্টা হামলার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, হামলার ফলে ইরানের চেইন অব কমান্ড বা সামরিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে এসেছে। অনেক সেনা সদস্য ভয়ে কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন না। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে আইআরজিসি সাংবিধানিক রীতিনীতি উপেক্ষা করে হলেও পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য চাপ দিচ্ছে। সূত্র: তাস কেএম