হলগুলোতে ইফতারে গরুর মাংস দেওয়ার দাবি ঢা‌বি সাদা দলের

আগামী ৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হলগুলোতে আয়োজিত ইফতার কর্মসূচিতে গরুর মাংসের পরিবর্তে মুরগির আইটেম রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ব‌বিদ্যায়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের এ দা‌বির সঙ্গে একমত পোষণ ক‌রে‌ ইফতারে গরুর মাংস দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ঢা‌বি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। সোমবার (২ মার্চ) ঢা‌বি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম ও অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকারের সই করা হল প্রশাসন‌কে দেওয়া এক চি‌ঠি‌তে এ কথা জানান তারা। চি‌ঠি‌তে নেতারা বলেন, আগামী ৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলে প্রশাসনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে জেনে আমরা আনন্দিত। তবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে আমরা অবগত হয়েছি যে, ওই ইফতার পরবর্তী নৈশভোজের মেন্যু থেকে গরুর মাংস বাদ দিয়ে শুধু মুরগির মাংস রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অথচ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী, ইফতার ও এ ধরনের বিশেষ ভোজগুলোতে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের কাছে গরুর মাংস অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রত্যাশিত খাবার। এরইমধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থী, ডাকসু ও হল সংসদের পক্ষ থেকেও গরুর মাংস অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিক দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই দাবিকে উপেক্ষা করে মেন্যু পরিবর্তন করা হলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হতে পারে। তাছাড়া, গরুর মাংস দিলে খুব বেশি টাকা খরচ হবে এমনটিও নয়। তারা ব‌লেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দলের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুরোধ- শিক্ষার্থীদের আবেগ ও চাহিদাকে অব্যশই সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে নৈশভোজে গরুর মাংস রাখার বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করুন। বিকল্প হিসেবে যারা গরুর মাংস খান না, তাদের জন্য মুরগির মাংসের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে: কিন্তু প্রধান মেন্যু থেকে গরুর মাংস বাদ দেওয়া কাম্য নয়। সর্বপোরি, শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত এই উৎসবমুখর পরিবেশে যেন কোনো ধরনের বৈষম্য বা ক্ষোভের সৃষ্টি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন। আশা করি, হল প্রশাসনের অভিভাবক হিসেবে আপনি/আপনারা শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য দাবির গুরুত্ব অনুধাবন করবেন এবং ইফতার মাহফিলের নৈশভোজে গরুর মাংস পরিবেশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এফএআর/এএমএ