ইরানের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সংঘাতকে ঘিরে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতারের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল ও চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উপর। এরইমধ্যে একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের বরাতে জানা গেছে রোববার (০১ মার্চ) থেকে সোমবার (০২ মার্চ) এ সময় পর্যন্ত মোট ৭৪টি ফ্লাইট (এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত) বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। জানা যায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। সকালে বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ২টি, ইউএস-বাংলার ১টি, এয়ার আরাবিয়ানের একটি ডিপার্চার ফ্লাইট এবং ইউএস-বাংলার একটি অ্যারিভাল ফ্লাইট। তবে সালাম এয়ারের মাস্কাট রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে আসা-যাওয়া করেছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: শাহ আমানতে এ পর্যন্ত বাতিল ২৫ ফ্লাইট এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৭৪টি ফ্লাইট (এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত) বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি মোট ২৩টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। এর মধ্যে ছিল এমিরেটসের ১টি, গালফ এয়ারের ১টি, ফ্লাইদুবাই ১টি, এয়ার অ্যারাবিয়া ৩টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ৬টি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১১টি ফ্লাইট। রোববার (১ মার্চ) সারা দিনে বাতিল ফ্লাইটের সংখ্যা ৪০টি। এর মধ্যে জাজিরা এয়ারওয়েজের ২টি, এমিরেটস-এর ৫টি, গালফ এয়ার-এর ২টি, ফ্লাইদুবাই-এর ৪টি, কাতার এয়ারওয়েজ ২টি, সালাম এয়ারের ২টি, এয়ার অ্যারাবিয়ার ৮টি, কুয়েত এয়ারওয়েজের ২টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স-এর ৪টি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর ৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত সোমবারের (২ মার্চ) ১১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ-এর ৪টি, এমিরেটস-এর ৫টি এবং গালফ এয়ারের ২টি ফ্লাইট রয়েছে। সব মিলিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২ মার্চ পর্যন্ত (এ রিপোর্ট লেখার পর্যন্ত) মোট ৭৪টি ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসতে চাওয়া কয়েক হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।