এবার সাধুসঙ্গ থাকলেও নেই মেলা-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত লালন শাহর আখড়াবাড়িতে লালন স্মরণোৎসব শুরু হয়েছে সোমবার (২ মার্চ)। এবার রমজানের কারণে দুপুর থেকে এক দিনই উদযাপিত হবে লালন স্মরণোৎসব; থাকছে না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলা।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) আলোচনা অনুষ্ঠান ও বাউলদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়েই শেষ হবে আয়োজন। সাধুসঙ্গ চলবে রীতি অনুসারে।এরআগে রোববার (১ মার্চ) সকালে ছেঁউরিয়ার আখড়াবাড়িতে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন।এ সময় কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, কুমারখালীর ইউএনও ফারজানা আখতারসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় লালন একাডেমি এই স্মরণোৎসবের আয়োজন করেছে।আরও পড়ুন: লালন স্মরণে এবার ‘সাধু সঙ্গ’ উৎসব হচ্ছে নাসরেজমিন গিয়ে এমন দৃশ্য দেখা যায়, উৎসব উপলক্ষে কয়েক দিন আগে থেকেই আখড়াবাড়িতে আসতে শুরু করেছেন লালন ভক্ত বাউল ফকিররা। খণ্ড খণ্ডভাবে ভাগ হয়ে আসনে বসছেন। কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে লালনের গান। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় বাউল-ভক্তদের উপস্থিতি বেশখানিকটা কম।উৎসবে আসা হৃদয় ফকির বলেন, ‘দোল পূর্ণিমা তিথি জন্য প্রতিবছরের ন্যায় সাঁইজির দর্শনের আসায় এসেছি। ভক্তরা অপেক্ষায় থাকে কখন এই দিন আসে। প্রতিবার দোল উৎসবে দেশ-বিদেশের বাউল ও সাধুরা আখড়াবাড়িতে আসত। তবে রমজানের কারণে এবার ভক্তবৃন্দ কম।’ভক্ত রওশন ফকির বলেন, ‘আমরা এখানে আসি শুধু নিজেকে ফিরে পাওয়া জন্যে, জানার জন্য। সাঁইজি সেই রাস্তা দেখায় দিয়ে গেছে। সেই পথ দিয়ে হাঁটলেই একদিন রাস্তা পাওয়া যাবে।’আরও পড়ুন: লালন আখড়ায় পুলিশ মোতায়েনস্থানীয় ফকির সামসু শাহ বলেন, ‘আত্মশুদ্ধি লাভের জন্য এবং ভালোবাসার টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্তবৃন্দরা আগত হচ্ছেন। তাদের বসার স্থান দেখিয়ে দেয়া হচ্ছে। সবার সঙ্গে দেখা, সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময় চলছে।’আখড়াবাড়ির ভারপ্রাপ্ত খাদেম মশিউর রহমান বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যায় গুরুকার্য দিয়ে শুরু হবে সাধুসঙ্গ। এর পর রাখাল সেবা, মধ্যরাতে অধিবাস, মঙ্গলবার ভোররাতে বাল্যসেবা এবং দুপুরে পূর্ণসেবার মধ্যদিয়ে সাধুসঙ্গ শেষ হবে।’তার ভাষ্য, পবিত্র মাহে রমজানের কারণে এবার ভক্তবৃন্দের উপস্থিতি কম হতে পারে।আরও পড়ুন: আখড়াবাড়িতে বাউল-সাধুদের হাট বসছে বৃহস্পতিবারকুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘উৎসবের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে মাজারসংলগ্ন এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ সব প্রকারের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘মাহে রমজানের কারণে উৎসব সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। দুপুরে আলোচনার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হবে। আর সাধুসঙ্গের সব কাজ সাধু-ভক্তরাই করবেন। প্রশাসন শুধু তদারকি করবে।’