দিনে নীরব বইমেলায় ভিড় বাড়ছে সন্ধ্যায়

রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে চলছে বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে বইমেলা। তবে এখনো পুরোপুরি জমে ওঠেনি মেলা। দিনের বেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর সমাগম তুলনামূলক কম। বিকেলের পর কিছুটা ভিড় বাড়ছে। বইমেলা শুরুর পঞ্চম দিনে সোমবার (২ মার্চ) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে দেখা যায়, দুপুরের দিকে স্টলগুলোতে বিক্রেতারা অনেকটাই অলস সময় কাটাচ্ছেন। বিকেল নামার পর ধীরে ধীরে বদলে যেতে থাকে দৃশ্যপট। সন্ধ্যায় কোথাও কোথাও বেশ ভিড় লক্ষ্য করা যায়। রমজান মাস চলার কারণে অনেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে ইফতারের পর মেলায় আসছেন। বিশেষত সন্ধ্যায় তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রকাশকরা বলছেন, রমজানের কারণে দিনের বেলায় অনেকেই বাইরে বের হচ্ছেন না। তবে বিকেলের পর উপস্থিতি কিছুটা বাড়ছে। মেলায় আসা বইপ্রেমী একজনের কথা হলে তিনি জানান, রোজার দিনে বিকেলে বের হওয়া কষ্টকর। তাই ইফতারের পর একটু সময় করে আসি। পরিবেশটাও তখন বেশি প্রাণবন্ত লাগে। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বইমেলা চলবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছুটির দিন মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। প্রতিবছর ১ ফেব্রুয়ারি বইমেলা শুরু হলেও এবার জাতীয় নির্বাচনের কারণে তা অনেকটাই পিছিয়েছে। রমজান ও ঈদুল ফিতর ঘিরে ব্যবসায়িক ক্ষতির শঙ্কায় মেলায় অংশ নেওয়া ঘিরে প্রকাশকদের মধ্যে দ্বিধা ছিল। তবে স্টলভাড়া শতভাগ মওকুফসহ বেশ কিছু দাবি পূরণ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলো মেলায় অংশ নিতে রাজি হয়। প্রকাশনা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাষার মাসজুড়ে মেলার অন্যরকম আমেজ থাকে। কিন্তু এবার সেটি নেই। মেলা শুরুই হয়েছে ফেব্রুয়ারির শেষ ভাগে। এসময়ে রমজান চলছে। সামনে ঈদ। ফলে অনেকে ইচ্ছে থাকলেও হয়তো মেলায় আসতে পারবেন না। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার ব্যবসায় মন্দার আভাস পাচ্ছেন তারা। এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণ করছে ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রকাশনার স্টল বসেছে। মোট ইউনিট রয়েছে ১ হাজার ১৮টি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বরের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে স্টল বরাদ্দ পেয়েছে ৮৭টি লিটল ম্যাগ। আব্দুল্লাহ আল কাউছার/এমকেআর