ইরান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত অনেক প্রবাসী শ্রমিক চাকরি হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ বিমান চলাচল স্বাভাবিক হবে; এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই ট্রাভেল এজেন্সি ও বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর কাছেও।মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে একের পর এক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় উদ্বেগ বেড়েছে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যে। বিশেষ করে ইসরাইল-ইরান উত্তেজনার পরিস্থিতির প্রভাব পুরো অঞ্চলের আকাশপথে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি ছুটিতে দেশে এসে সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। এতে চাকরি হারানোর ভয় যেমন বাড়ছে, তেমনি নির্দিষ্ট সময়ে কাজে যোগ দিতে না পারলে ভিসা বাতিল হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ট্রাভেল এজেন্সি ও এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবও সমস্যাকে বাড়াচ্ছে। প্রবাসীরা বলছেন, বাতিল হওয়া ফ্লাইট কবে আবার চালু হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। ফলে বিদেশে চাকরি হারানোর ঝুঁকি বাড়ছে। আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: শাহ আমানতে এ পর্যন্ত বাতিল ২৫ ফ্লাইট এদিকে টিকিট ফেরত বা তারিখ পরিবর্তনের জন্য এজেন্সিতে গেলে জানানো হচ্ছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট সূচি স্থিতিশীল হবে না। এয়ার স্পিডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সালাম আরেফ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা অনেক প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষের পথে। কেউ কেউ ২-৩ মাস আগে কম দামে টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু এখন ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় তারিখ পরিবর্তন করতে গেলে অতিরিক্ত ফি বা নতুন ভাড়ার সঙ্গে সমন্বয় করতে হচ্ছে। এতে টিকিটের দাম বেড়ে যাচ্ছে এবং প্রবাসীদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। চলমান পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে বিমান চলাচল খাতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স-এর মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ বিভাগ) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় প্রবাসীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। একটি ফ্লাইট বাতিল হলে সেটি আবার নিয়মিত চালু করতে সময় লাগে। এতে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মনে করে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় যাত্রীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেয়া জরুরি। সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ বিভাগ) বোসরা ইসলাম বলেন, পুরো বিশ্বের এভিয়েশন খাতই ক্ষতির মুখে। তবুও পরিস্থিতি মেনে নিয়ে যাত্রীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এরই মধ্যে বাতিল হওয়া ফ্লাইটের পাশাপাশি বিকল্প রুটে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চালানোর চেষ্টা করছে বিমান বাংলাদেশ, ইউএস-বাংলাসহ কয়েকটি এয়ারলাইন্স।