সাইপ্রাসে অবস্থিত যুক্তরাজ্যের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।সাইপ্রাস সরকারের একটি উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই ড্রোনগুলো লেবানন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল এবং এর পেছনে হিজবুল্লাহর হাত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।সাইপ্রাসের উপকূলীয় শহর লিমাসোলের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ‘আক্রোতিরি’-কে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত একটি ড্রোন ঘাঁটির রানওয়েতে আঘাত হেনেছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাইপ্রাস সরকারের এক সূত্র নিশ্চিত করে বলেছেন, “এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ড্রোনগুলো লেবানন থেকে উড়ে এসেছিল। ইরান সমর্থিত গোষ্ঠী (হিজবুল্লাহ) এই হামলা চালিয়েছে কি না–এমন প্রশ্নে তিনি জানান, ‘সম্ভবত তারাই এটি করেছে’।”এদিকে আক্রোতিরি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার পেছনে লেবানন ভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জড়িত বলে জানিয়েছে গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘জেনোসাইড ওয়াচ’। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-নির্মিত ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে। আরও পড়ুন: ১০টির বেশি ইন্টারসেপ্টর রকেটও ঠেকাতে পারল না ইরানি মিসাইলকে! (ভিডিও) সাইপ্রাস সরকারের সূত্রের বরাত দিয়ে জেনোসাইড ওয়াচ জানিয়েছে, ড্রোনগুলো লেবানন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে–এটি এখন নিশ্চিত। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ এবং উৎক্ষেপণ পথ বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর থাকার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। অন্তত একটি ড্রোন ব্রিটিশ এই ঘাঁটির রানওয়েতে সরাসরি আঘাত হেনেছে।১৯৬০ সালে সাইপ্রাসের স্বাধীনতার পর থেকে যুক্তরাজ্য যে দুটি সার্বভৌম সামরিক ঘাঁটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, আক্রোতিরি তার মধ্যে অন্যতম। এই ঘাঁটিটি মধ্যপ্রাচ্যে ব্রিটিশ সামরিক অভিযানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে গাজা ও লেবানন সংকটে ইসরাইলকে গোয়েন্দা তথ্য এবং রসদ সরবরাহের ক্ষেত্রে এই ঘাঁটির ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষুব্ধ ছিল ইরান ও তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো।সংস্থাটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং ইউরোপের দোরগোড়ায় নিয়ে গেছে। হিজবুল্লাহর এই পদক্ষেপকে ব্রিটেন ও পশ্চিমা মিত্রদের সরাসরি যুদ্ধের উসকানি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আক্রোতিরি ঘাঁটিতে সামরিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরাও বসবাস করেন, ফলে বেসামরিক জানমালের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিও বাড়ছে।