মিনি কাভার্ডভ্যানের সিলিংয়ে তৈরি করা হয় বিশেষ চেম্বার। লোহার পাতে স্ক্রু দিয়ে আটকানো এই চেম্বারে থরে থরে ভরা থাকে মাদক। পরে জরুরি সেবা ওষুধসহ বিভিন্ন পণ্য পরিবহনের নামে রাস্তায় নামানো হয় এসব কাভার্ডভ্যান। সম্প্রতি রাজধানীর তুরাগ থেকে একটি মিনি কাভার্ডভ্যানের বিশেষ চেম্বার থেকে ৮৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে র্যাব।জরুরি সেবার পরিচয় দেয়ার কারণে বেশিরভাগ সময়ই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে মাদক পরিবহন করা হয় কাভার্ডভ্যানটিতে। তবে এবারই প্রথম গ্রেফতার করা হয়েছে দুই পাচারকারীকে, যারা অভিনব কায়দায় তিন বছর ধরে বিভিন্ন সীমান্ত থেকে মাদক এনে তুরাগ, টঙ্গী ও গাজীপুরে পাচার করছিল। কাভার্ডভ্যানটি আটকের র্যাবও অবাক হয়, কেননা প্রথমে কোথায় খুঁজে পাওয়া যায়নি মাদক। পরে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে চেম্বারের সন্ধান মেলে। সিলিংয়ের ওপর কয়েকশো স্ক্রু দিয়ে আটকানো চেম্বার খুলতে বেশ বেগ পেতে হয় র্যাব সদস্যদের। একে একে বেশকয়েকটি স্ক্রু খোলার পর লোহার পাত সরাতেই কালো প্লাস্টিকে মোড়ানো থরে থরে সাজানো প্যাকেট বের হতে থাকে। ৪৩টি প্যাকেটে মেলে ৮৬ কেজি গাঁজা। যার বাজারমূল্য প্রায় ২৬ লাখ টাকা। আরও পড়ুন: পুটখালী সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১৭৫ বোতল ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ জব্দ র্যাব জানায়, আটককৃতরা বড় মাদক সিন্ডিকেটের সদস্য। তারা জরুরি সেবার নামে মিনি কাভার্ডভ্যানে বিশেষ চেম্বার বানিয়ে মাদক পাচার করছিল। র্যাব-১-এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর রবিউল আলম বলেন, চেম্বারটি মূলত পাচারকারীরা নিজেদের আইডিয়া দিয়ে তৈরি করেছে। খুব ভালোভাবে পরীক্ষা না করলে এটি ধরা সম্ভব নয়; যে সেখানে মাদকদ্রব্য বহন করা সম্ভব। চক্রটি কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সীমান্ত থেকে নিয়মিত অভিনব কায়দায় মাদক ঢাকার তুরাগে আনে। এরপর সেগুলো ছড়িয়ে দেয় টঙ্গী ও গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায়। মেজর রবিউল আলম আরও বলেন, পুলিশের চেকপোস্টে গাড়ি থামালে পাচারকারীরা বলতো; ওষুধ বা কাঁচামাল পরিবহন করা হবে। এতে এতোদিন তারা সহজেই ফাঁকি দিতে পারছিল। তিন বছরের এই অভিনব কায়দায় মাদক পরিবহনের পরে এবারই প্রথম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে বলে র্যাব জানিয়েছে।