‘যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা’, ‘বড় ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার’

প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য - দৈনিক মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে হামলার আগুন এখন গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা মোকাবিলায় উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইনে মার্কিন অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে আয়াতুল্লাহ খামেনির দেশ। অর্থাৎ এই যুদ্ধ এখন আর ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর আগুন উপসাগরীয় দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এসব দেশের সাধারণ মানুষকে ড্রোন হামলার সময় ছুটে পালাতে দেখা যায়।  বিশ্লেষকরা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে দ্রুত যুদ্ধ শেষ করার চাপে ফেলতেই উপসাগরীয় দেশগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন পাঠাচ্ছে তেহরান। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে দেশটি। ড্রোনের আঘাত পড়ছে তেল শোধনাগারের ওপর। এতে তেলের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। আল জাজিরার খবর, সৌদি আরবের সর্ববৃহৎ তেল শোধনাগার রাস তানুরায় হামলা হয়েছে। এতে দেশটির তেল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। মিডিয়ার খবর, গত তিনদিনে সৌদির ৬৮ শতাংশ তেল উৎপাদন কমে গেছে। হামলার প্রভাব ইউরোপের তেলের বাজারেও পড়েছে। সেখানে তেলের দাম ২২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা - দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান সংবাদ এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যখন উপসাগরী দেশগুলোতে একের পর এক মার্কিন ঘাঁটি এবং তাদের শহরে হামলা চালায় তখন সরকারগুলোও চুপ ছিল। তারা যুদ্ধ এড়াতে নিন্দা ছাড়া আর কিছুই বলেনি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে বলছে, ইরানের হামলা অব্যাহত থাকায় এখন হয়তো ছয়টি দেশ পালটা হামলা চালাতে পারে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে। কেবল উপসাগরীয় দেশগুলোই নয়, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং জার্মানিও মিত্র দেশগুলোর সমর্থনে ইরানে পালটা হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।  ইরানে চালানো যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ ধরে ইরানে হামলা অব্যাহত থাকবে। এর আগের দিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় রাজি হওয়ার কথা বললেও গতকাল সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটেন। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজানি জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনায় যাবে না তেহরান।জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা, ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি - দৈনিক প্রথম আলোর সংবাদ এটি। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে প্রতিবেশী যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোতে হামলা চালাচ্ছে ইরান। তেহরানের এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে জ্বালানি স্থাপনাও। গতকাল সোমবার এ ধরনের কয়েকটি হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে গ্যাস ও তেল শোধনাগার বন্ধ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ইসরায়েলের মতো উন্নত না হওয়ায় ইরান তাদের সহজ লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে। তাঁরা বলছেন, এই অঞ্চলের প্রধান তেল শোধানাগারগুলোতে ইরানের হামলা যুদ্ধের কারণে সংকটে থাকা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সমস্যা যোগ করেছে। তা মূলত এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিকে আঘাত করছে।বড় ঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শ্রমবাজার অনেকটাই মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। আমাদের মোট অভিবাসীর ৬৭ শতাংশই যায় সৌদি আরবে। শ্রমবাজারের দ্বিতীয় স্থানে কাতার, চতুর্থ কুয়েত, ষষ্ঠ আরব আমিরাত এবং সপ্তম স্থানে রয়েছ জর্দান। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় প্রতিটি দেশেই যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বড় ঝুঁকিতে পড়েছে আমাদের শ্রমবাজার।  আতঙ্কে আছেন প্রবাসীরা। অনেকেই ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। আর এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে রেমিট্যান্সে। জানা যায়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক শিল্পের রপ্তানি আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান দুই চালিকাশক্তি। অদৃশ্য চাপে আত্মহননের পথে অল্প বয়সিরা - দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত সংবাদ এটি।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অল্প বয়সিদের আত্মহননের ঘটনা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে এ প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপপ্রভাব এবং মেধা অনুযায়ী সম্মানজনক কর্মসংস্থানের ঘাটতি-সব মিলিয়ে তরুণ প্রজন্মের ওপর তৈরি হচ্ছে এক অদৃশ্য চাপ। সেই চাপ সামাল দিতে না পেরে কেউ কেউ বেছে নিচ্ছে চরম পথ।  জানা গেছে, স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, কলেজগামী তরুণ-তরুণী বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী-তাদের বয়স অল্প, কিন্তু স্বপ্ন অনেক বড়। বাইরে থেকে তারা প্রাণবন্ত, আড্ডায় সরব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়। কিন্তু পরিবারের অজান্তেই তাদের কারও কারও ভেতরে জমে ওঠে অদৃশ্য সংকট। দীর্ঘদিনের হতাশা, অভিমান, একাডেমিক চাপ, প্রেমঘটিত টানাপোড়েন, পারিবারিক দ্বন্দ্ব, মানসিক অস্থিরতা, এমনকি যৌন নির্যাতনের মতো অভিজ্ঞতা অনেকের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেই কষ্ট প্রকাশ পায় না। নীরবে সেই কষ্ট জমতে জমতে একসময় তা ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দেয়।