এক যুগে রেলের উন্নয়নে খরচ হয়েছে দেড় লাখ কোটি টাকা। অথচ এখনও সংস্থাটির প্রতি বছর লোকসান প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। ভয়াবহ ইঞ্জিন সংকটে নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না সব ট্রেন। প্রতিনিয়ত ঘটছে শিডিউল বিপর্যয়। যাত্রী চাহিদা থাকলেও কোচের সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাত্রীসেবা বাড়াতে বিনিয়োগ না করে শুধু অবকাঠামো উন্নয়নে ডুবতে বসেছে রেল।সারাদেশে ট্রেনযাত্রায় কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ৫ হাজার কোচ। অথচ বর্তমানে আছে মাত্র আড়াই হাজার। ফলে যাত্রীরা স্বস্তি না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন। তারা বলছেন, যাত্রীসংখ্যার তুলনায় ট্রেনের সংখ্যা অনেক কম। অনেক সময় ট্রেনে দাঁড়ানোর জায়গাও পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ সরকারের উচিত ট্রেনের সংখ্যা অনেক বেশি বাড়ানো। ইঞ্জিন সংকটে প্রতিদিনই শিডিউল বিপর্যয়ে রেলওয়ে। ঝুঁকিপূর্ণ ইঞ্জিন দিয়েই চলছে যাত্রী পরিবহন। কিছু রুটে গতিও কমেছে, দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। কমলাপুর রেলস্টেশনের ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, পাওয়ার প্রাপ্যতার স্বল্পতার কারণে প্রতিদিনই কিছু ট্রেন বিলম্ব হচ্ছে। ফলে শিডিউল কিছুটা বিপর্যয়গ্রস্ত হয়েছে। ১৯৬৯-৭০ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ের ইঞ্জিন ছিল ৪৮৬টি। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২৭০টিতে। এর মধ্যে ৫৬ শতাংশেরই মেয়াদ শেষ। বহু পুরোনো ইঞ্জিন মেরামতে মিলছে না যন্ত্রাংশও। আরও পড়ুন: ট্রেনে ঈদযাত্রা: অগ্রিম টিকিট কাটবেন যেভাবে রেলওয়ে কর্মী ও কর্মচারীরা জানান, ৪০-৫০ বছর আগের কিছু পুরানো ইঞ্জিন এখনো রয়েছে। বেশিরভাগ ইঞ্জিনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন এমনি জোড়াতালি দিয়ে কোনোরকম চালানো হচ্ছে। এসব কারণে গত এক যুগে রেলওয়ের লোকসান ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোচ ও ইঞ্জিন না কিনে শুধু বিলাসী অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের ফলে রেল খাত ডুবতে বসেছে। রেল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বলেন, বিশ্বের মধ্যে সেবা ও গতির দিক থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে এখন তলানিতে। আগামী এক দশকে রেলের উচিত কোনো বিলাসী অবকাঠামো উন্নয়ন না করা। বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, এখন ইঞ্জিন কেনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আমাদের কিছু পরিকল্পনা আছে; নতুন কোচ এবং ইঞ্জিন কেনা হবে। এটি বাস্তবায়নে দুই থেকে তিন বছর লাগবে। গত ১০ বছরে শতাধিক লোকাল মেইল ও কমিউটার ট্রেন বন্ধ হয়েছে এবং ১৩০টি রেল স্টেশনও বন্ধ হয়ে গেছে।