মধপ্রাচ্যজুড়ে চলমান অস্থিরতার জেরে তেল পরিবহনের খরচ সর্বকালের সর্বোচ্চ হয়েছে। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে তেল পরিবহনের জন্য একটি সুপারট্যাংকারের ভাড়া সর্বকালের সর্বোচ্চ চার লাখ ডলার ছাড়িয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার আগের তুলনায় এই মূল্য প্রায় দ্বিগুণ। দুই মিলিয়ন বা ২০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত অপরিশোধিত তেল বহন করতে পারে, এমন তেল বহনকারী জাহাজগুলোকে এই রেকর্ড ভাড়া দিতে হচ্ছে। ইরান-ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কার্পস (আইআরজিসি)। মূলত এ কারণেই তেল পরিবহনের খরচ এত বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের দক্ষিণে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। সোমাবার (২ মার্চ) আইআরজিসির নতুন প্রধান আহমদ ভাহিদির জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইব্রাহিম জাব্বারি দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, প্রণালিটি এখন থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হলো। কোনো জাহাজ এটি পার হওয়ার চেষ্টা করলে বিপ্লবী গার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা সেটি পুড়িয়ে দেবে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করেছে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। আইআরজিসির টেলিগ্রাম চ্যানেলে জাব্বারি আরও জানান, তারা তেলের পাইপলাইনগুলোতেও হামলা চালাবেন এবং এই অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেলও বাইরে যেতে দেবেন না। জাব্বারির দাবি, এই উত্তেজনার ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, হাজার হাজার কোটি ডলারের ঋণে জর্জরিত মার্কিনিরা এই অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু তারা জেনে রাখুক, এক ফোঁটা তেলও তাদের কাছে পৌঁছাবে না। সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা এসএএইচ