উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন লবণ চাষিরা

কক্সবাজারের টেকনাফে লবণের ভরা মৌসুমে পুরোদমে উৎপাদন চললেও ন্যায্য মূল্য না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। গত বছরের তুলনায় লবণের দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় চরম হতাশা ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার হাজার হাজার লবণ চাষি। স্থানীয় চাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদনের ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি, জমি ইজারার খরচ বৃদ্ধি, মাঠ প্রস্তুতের ব্যয়, পলিথিন, বাঁশ, দড়ি ও পানি সেচের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির দাম বেড়ে যাওয়ায় চাষিদের মোট উৎপাদন খরচ আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় ও বাজার জাতকরণের খরচও বেড়েছে। তারা বলছেন, উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারে প্রতি মণ লবণের দাম উল্টো কমে গেছে। ফলে অনেক তারা উৎপাদন খরচই তুলতে হিমসিম খাচ্ছে। কেউ কেউ ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছেন, এখন কম দামে লবণ বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় তারা লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন। এ অবস্থায় দ্রুত বাজার স্থিতিশীল না হলে এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে চাষিরা আরও বড় আর্থিক সংকটে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চাষিরা। হ্নীলারা এলাকার লবণ চাষি মো. আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা কঠোর পরিশ্রম করে লবণ উৎপাদন করি। কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। গত বছর এক মণ লবণ ৩৫০- ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, কিন্তু এ বছর তা কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে এক মণ লবণের খরচ ২৪০ টাকা। হোয়াইক্যংয়ের আরেক ভুক্তভোগী এক লবণ চাষি জমির উদ্দিন বলেন, আমরা সারাদিন প্রখর রৌদ্রে মাঠে কাজ করছি। বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছি। কিন্তু যদি লবণের সঠিক মূল্য না পাই, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত বাজার পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে না সামনে লবণের দাম বাড়বে, এ নিয়ে আমরা চরম অনিশ্চয়তায় আছি। বিসিকের লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয় কক্সবাজারের পরিদর্শক (উন্নয়ন) মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে লবণ চাষিরা তাদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না, এ বিষয়টি আমরা অবগত আছি। বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং চাষিদের স্বার্থ সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি চাষিদের দাবি ও সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলম/কেএইচকে/এমএস