সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতির ওপর হামলার ঘটনায় চার নেতাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনারুল ইসলাম আঙ্গুরসহ ওই চারজনকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃত এই চারজনই সাংবাদিক নেতার ওপর হামলা মামলার আসামি।মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দফতর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই বহিষ্কারাদেশ দেয়া হয়। এতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের নীতি, আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থিসহ নানা অনাচারের কারণে শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনারুল ইসলাম আঙ্গুর, যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজ আল আসাদ ও বাবলুর রহমান এবং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য আব্দুর রহিমকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। বহিষ্কৃত নেতাদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে। এর আগে সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন প্রেসক্লাব ভবনে ঢুকে সভাপতি সামিউল মনিরের ওপর অতর্কিত হামলা চালান যুবদল নেতা আঙ্গুরের নেতৃত্বাধীন একদল নেতাকর্মী। হামলাকারীরা তাকে মারতে মারতে ভবনের বাইরে নিয়ে যায় এবং ইট, হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। সামিউল মনির দৈনিক সমকাল ও দৈনিক পত্রদূতের শ্যামনগর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় বিএনপির অফিস পুড়িয়ে দিলো দুবৃর্ত্তরা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলায় উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনারুল ইসলাম আঙ্গুর, বাবলু, মিজান, মোতালেবসহ ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী অংশ নেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের আয়োজনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে হামলাকারী যুবদল নেতাদের বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে তাদের পক্ষ নেয়ার অভিযোগে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) প্রত্যাহার দাবি করেন সাংবাদিকরা। প্রসঙ্গত, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দৈনিক সমকালে ‘যুবলীগ-যুবদল-যুব বিভাগ মিলে খোলপেটুয়া-কপোতাক্ষ নদের বালু লুট’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই সাংবাদিক সামিউল মনিরকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছিল।