জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণ আমির হোসেনকে গুলি করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা মামলার রায় বুধবার (৪ মার্চ) না দিতে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছে প্রসিকিউশন।মামলায় গুলি করার নির্দেশদাতা পুলিশ কর্মকর্তার কল রেকর্ড পাওয়ার পরও তাকে আসামি না করায় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এ আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ৪ মার্চ মামলার রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। মামলায় মোট আসামি পাঁচ জন। এর মধ্যে পলাতক আছেন চার আসামি। পলাতক আসামিরা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান ও সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। মামলার একমাত্র গ্রেফতার আসামি পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার। আরও পড়ুন: জুলাই হত্যাকাণ্ডে নির্দেশদাতা ও জড়িতরা কীভাবে পালালো, তার বিচারও করতে হবে: রিজওয়ানা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন আমির হোসেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাসার কাছে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার মধ্যে পড়ে যান তিনি। তখন পুলিশ গুলি শুরু করলে দৌড়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনের চারতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন আমির। পরে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া করতে গিয়ে পুলিশও চারতলায় উঠে যায়। সেখানে আমিরকে পেয়ে পুলিশ সদস্যরা তার দিকে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করে বারবার নিচে লাফ দিতে বলেন। একজন পুলিশ সদস্য ভয় দেখাতে কয়েকটি গুলিও ছোড়েন। একপর্যায়ে ভয়ে আমির হোসেন লাফ দিয়ে নির্মাণাধীন ভবনটির রড ধরে ঝুলে থাকেন। তখন তৃতীয় তলা থেকে একজন পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয়টি গুলি করেন। গুলিগুলো তার দুই পায়ে লাগে। আরও পড়ুন; ৪৬ দেশের প্রতিনিধিদের সম্মেলনে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি পরে পুলিশ চলে গেলে আমির ঝাঁপ দিয়ে কোনোভাবে তৃতীয় তলায় পড়েন। তখন তার দুই পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। প্রায় তিন ঘণ্টা পর একজন শিক্ষার্থী ও দু’জন চিকিৎসক তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেন। সেখান থেকে পরে তাকে নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। নির্মম এ ঘটনায় তিনি ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। একই দিনে রামপুরায় ঘটনাস্থলের সামনে আরও দু’জনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগও এই মামলায় আনা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে কেবল আমির হোসেনকে গুলি ছাড়াও শিশু বাসিত খান মুসার (৭) মাথা ভেদ করে তার দাদি মায়া ইসলামের মৃত্যু এবং মো. নাদিম নামের আরও একজনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।