দুবাইয়ে আতঙ্কময় দিনের অভিজ্ঞতা শোনালেন ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের যৌথ হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাটিগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইরান। সংযুক্ত আরব আমিরাতও (ইউএই) ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান সংঘাতের সময়ে দুবাইয়ে কাটানো আতঙ্কময় দিনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি রিও ফার্দিনান্দ। গত গ্রীষ্মে স্ত্রী কেট ফার্দিনান্দ ও সন্তানদের নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাস শুরু করা সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক জানিয়েছেন, বিলাসবহুল জীবন হঠাৎ করেই রূপ নেয় বাঙ্কারে আশ্রয় নেওয়ার বাস্তবতায়।গত আগস্টে ফার্দিনান্দ পরিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান নতুন শুরুর আশায়। সন্তান শে, ক্রি ও টিয়াকে নিয়ে তারা দুবাইয়ে স্থায়ী হন। দুবাই দীর্ঘদিন ধরেই ধনাঢ্য ও তারকাদের নিরাপদ আবাস হিসেবে পরিচিতি গড়েছে। সাবেক বক্সার আমির খান এবং অভিনেত্রী লিন্ডসে লোহানসহ অনেকেই সেখানে বসবাস শুরু করেছিলেন।কিন্তু ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে আকস্মিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সেই নিরাপত্তাবোধ ভেঙে দেয়। বিলাসবহুল বাসভবন একপ্রকার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত হয়।নিজের পডকাস্ট রিও ফার্দিনান্দ প্রেজেন্টসে কথা বলতে গিয়ে ফার্দিনান্দ জানান, পরিস্থিতি তাদের মানসিকভাবে নাড়িয়ে দিয়েছে।আরও পড়ুন: ঋতু-মনিকাদের খেলা দেখে মুগ্ধ বাটলার, পোস্টে মিলিকে দেখে অবাক চীনের কোচতিনি বলেন, 'সপ্তাহটা আলাদা ছিল, মিথ্যা বলব না। কোভিড সময়ের মতো আমরা পুরো পরিবার একসঙ্গে এমন কিছু করছি, যা সাধারণত করতাম না।'তিনি আরও বলেন, 'মিসাইল, বিমান আর যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা, আর বড় বিস্ফোরণের আওয়াজ; ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। বাবা হিসেবে সন্তানদের বোঝানো এবং শান্ত থাকা খুব গুরুত্বপূর্ণ।'নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে কর্তৃপক্ষের পরামর্শে তারা বেসমেন্টে আশ্রয় নেন। ফার্দিনান্দ বলেন, 'সত্যি বলতে, কিছুটা ভয়ংকর ছিল। তবে অদ্ভুতভাবে নিজেকে নিরাপদও মনে হয়েছে। আমার স্টুডিওই বাঙ্কার হয়ে গেছে। আমরা কম্বল নিয়ে নিচে ঘুমিয়েছি।'কেট ফার্দিনান্দ সামাজিক মাধ্যমে জানান, 'সবাইকে ধন্যবাদ বার্তার জন্য। আমরা নিরাপদ আছি। সরকার দারুণ কাজ করছে। নার্ভাস লাগলেও আমরা ভালো হাতে আছি।'আশ্চর্যের বিষয়, বাচ্চাকাচ্চারা পরিস্থিতির ভয়াবহতা পুরোপুরি বুঝতে পারেনি। কেট লেখেন, 'আমরা শান্ত একটা রাতের আশা করছি। গত রাতটা খুব ভয়ংকর ছিল। তবে ক্রি আর শে মনে করেছে এটা যেন বেসমেন্টে মজার স্লিপওভার।' আরও পড়ুন: ইরানের আক্রমণের ভয়ে সৌদি ছেড়ে গেছেন রোনালদোপরিস্থিতি আরও জটিল কারণ ফার্দিনান্দের বড় দুই ছেলে লরেঞ্জ ও টেট যুক্তরাজ্যে থেকে ফুটবল ক্যারিয়ার চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিবার দুই মহাদেশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ডিফেন্ডার ফার্দিনান্দ এখন মিডিয়া দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি দুবাইয়ে ছোট সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। অনিশ্চিত ও অস্থির সময়ের মধ্যে তিনি স্থানীয় অবকাঠামোর ওপর নির্ভর করে দৃঢ় থাকার চেষ্টা করছেন। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত তাদের স্বপ্নের নতুন জীবনকে সাময়িকভাবে থামিয়ে দিলেও, পরিবারটি আপাতত নিরাপদ আছে, এটাই তাদের সবচেয়ে বড় স্বস্তি।